• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

চলে গেলেন ‘বাঁটুল দি গ্রেট’, ‘নন্টে-ফন্টে’র স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

ফন্ট সাইজ
চলে গেলেন ‘বাঁটুল দি গ্রেট’, ‘নন্টে-ফন্টে’র স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ

চলে গেলেন ‘বাঁটুল দি গ্রেট’, ‘নন্টে-ফন্টে’, ‘হাঁদা-ভোঁদা’র স্রষ্টা, ভারতীয় উপমহাদেশের প্রবাদপ্রতীম কার্টুনিস্ট, লেখক নারায়ণ দেবনাথ। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০.১৫ মিনিটের দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা নিয়ে কলকাতার বেলেভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৭ বছর।

কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ-এর জন্ম ১৯২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার শিবপুরে। অল্প বয়স থেকেই শিল্পের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। বাড়িতে অলঙ্কার তৈরির চল ছিল। ছোট থেকেই গয়নার নকশা তৈরি করতেন নারায়ণ দেবনাথ। স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি আর্ট কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে বন্ধ হয়ে যায় আর্ট কলেজে পড়া। তার পর কয়েকটি বিজ্ঞাপন সংস্থার হয়ে কাজ করেন।

গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেড় হাজারেরও বেশি সিরিয়াস ও মজার কমিকস সৃষ্টি করে বাংলার শিশু সাহিত্যে এক অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। ১৯৬৫ সালে ‘শুকতারা’ পত্রিকায় আত্মপ্রকাশ করে বাঁটুল। বাঙালির প্রথম সুপারহিরো। তারপর একে একে তাঁর সৃষ্টি করা কমিক্স চরিত্র গুলো নজর কাড়তে থাকে। 

তাঁর অসামান্য কীর্তির জন্য আজীবন তিনি পেয়েছেন অজস্র সম্মান, অগুনতি মানুষের ভালোবাসা। ২০১৩ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার এবং বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হন নারায়ণ দেবনাথ। ২০২১ সালে পান পদ্মশ্রী, সেই সম্মান গত সপ্তাহেই হাসপাতালের বেডে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

নারায়ণ দেবনাথের প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যশিল্পী ও কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাঁটুল দি গ্রেট, হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাহাদুর বেড়াল প্রভৃতি চরিত্রের স্রষ্টা নারায়ণ দেবনাথ সব বয়সের পাঠকের মনে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছেন।… আমি নারায়ণ দেবনাথের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বিভি/এসডি

মন্তব্য করুন: