• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত মমতাজউদ্দিন আহমেদের জন্মদিন আজ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:০৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

ফন্ট সাইজ
নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত মমতাজউদ্দিন আহমেদের জন্মদিন আজ

সংগৃহীত ছবি

আজ প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক ও একুশে পদক প্রাপ্ত মমতাজউদদীন আহমদ-এর জন্মদিন। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।

মমতাজউদদীন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের পর মমতাজউদদীন আহমদ পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসে। তাঁর পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মাতার নাম সখিনা বেগম।

মমতাজউদদীন মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করে। ১৯৫১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সংগে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন।

ছাত্রাবস্থায়ও তিনি তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে অংশ নেন। রাজশাহীর ভাষা আন্দোলন কর্মী গোলাম আরিফ টিপু’র সংগে তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজশাহী কলেজে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেও ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৭ ও ১৯৫৮ সালে তিনি রাজনীতির কারণে কারাবরণ করেন।

১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন মমতাজউদদীন আহমদ। তিনি ৩২ বছরের বেশি সময় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ১৯৭৬-৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মমতাজউদদীন আহমদ।

ভারতের দিল্লী, জয়পুর এবং কলকাতায় নাট্যদলের নেতা হিসাবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন মমতাজ উদদীন আহমদ। তাঁর বেশ কিছু নাটক, বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। তাঁর লেখা নাটক ‘কি চাহ শঙ্খ চিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা পান এই নাট্যকার। এছাড়াও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

মমতাজউদদীন আহমদ বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকসমূহে নিয়মিত কলামও লিখতেন। শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন মমতাজউদদীন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। এছাড়াও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
 
মমতাজউদদীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া ২০১১ সাল থেকে মমতাজউদদীন আহমদ  জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মমতাজউদ্দিন আহমেদ ২ জুন ২০১৯ ইন্তেকাল করেন। 

আজকের এই দিনে প্রখ্যাত এই নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

বিভি/এএইচ/এসডি

মন্তব্য করুন: