• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাঙালির রুচি নির্মাতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অজয় দাশ গুপ্ত

প্রকাশিত: ২০:০৫, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ২০:০৭, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
বাঙালির রুচি নির্মাতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

হুমায়ূন আহমেদের সাথে গুলতেকিনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তখন। পরিবারের সাথে সম্পর্ক তেমন অটুট বা সুগভীর না। কিন্তু বাবা তো বাবাই। কন্যার জন্য তার বিশেষ দিনে এমন এক উপহার দেবেন বলে ঠিক করলেন যাতে চমক থাকবে,  মনও ভালো হয়ে যাবে। 
সেটা কোন দামী গাড়ী, বাড়ী, অলংকার বা তেমন কিছু  হলে মানুষটির নাম হুমায়ূন আহমেদ হতো না। আমন্ত্রণ জানিয়ে হাজির করিয়েছিলেন মেয়ের প্রিয় ও বাঙালির মননের প্রতীক কিংবদন্তি লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও হুমায়ুন আহমদ
 একসময় কলকাতা ছেড়ে আমেরিকা চলে গিয়েছিলেন ছেলের কাছে। থাকবেন বলে। একদিন বাড়ীর লনের ঘাস পরিষ্কার করার সময় প্রতিবেশী এক শ্বেতাঙ্গ "হাই " হ্যালো বলে  কথা শুরু করেছিল। এক বোতল বিয়ার ধরিয়ে দিয়ে গাঁক গাঁক করা ইংরেজিতে তাঁকে তালিম দিয়েছিলেন কি ভাবে ঘাস কাটতে হয়। তখনই তিনি বুঝে নিয়েছিলেন মার্কিন মুলুক তাঁর জন্য না। ফিরতে হবে বাংলায়।
ভাগ্যিস ফিরে এসেছিলেন। ইতিহাস কি বলে? রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, ঋষি অরবিন্দ, সুভাষ বসু থেকে হুমায়ূন আহমেদ বা জাফর ইকবাল সবাই একটা সময় বিদেশে থেকে এক সময় ফিরে এসে হয়েছেন ভূবন বিখ্যাত। যাঁরা থেকে যান বা থেকে যেতে বাধ্য হয় তাঁদের বেশীর ভাগই আমাদের মতো বনসাই।
"মনের মানুষ" একাই একশ উপন্যাসে। তরুণ বয়সে পড়া "মা বাবা ভাই বোন " ভুলতে পারি নি। বাংলা গদ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া " পূর্ব পশ্চিম " "প্রথম আলো " অবশ্য পাঠ্য সুখকর দুটি আকর গ্রন্থ। বাঙালি মনীষার এমন ক্লাসিক গদ্য তুলনা বিরল। চিতার আগুনে পুড়ে ছাই হতে থাকা স্বামী বিবেকানন্দের চাদরের অংশ উড়ে এসে পড়েছিল ক্রন্দনরতা ভগিনী নিবেদিতার কাছে।  ঐ জায়গাটুকু প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার বিরল এক ম্যালবন্ধন।
কবি হিসেবেও কিংবদন্তী তূল্য যশের অধিকারী তাঁর নীরা বাঙালির প্রিয় চরিত্র।  তেত্রিশ বছর কেটে গেছে কেউ কথা রাখে নি,   কত কত তেত্রিশ বছর কেটে গেলেও যে পাঠ হবে কে জানে?
তবে আমার প্রিয় দুটি পংক্তি অন্য একটি কবিতার। যেখানে আছে,
এখানেই ঝরেছিল মানুষের রক্তমাখা ঘাম
এখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে থাকে নদীকে প্রণাম।
তাঁর একটি অসামান্য আশাবাদ আছে সকলের জন্য। বলেছিলেন,তিনি স্বপ্ন দেখেন তাঁর বইগুলো একসময় মরে গিয়ে ভূত হবে৷ তারপর কম্পিউটারের গলা চিপে ধরে তার মৃত্যু ঘটতে বাধ্য করবে।
শুভ জন্মদিন সব্যসাচী লেখক বাঙালির রুচি নির্মাতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

মন্তব্য করুন: