• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

পদ্মা সেতু: ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রসার ঘটবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে

জসিম উদ্দিন, মোংলা 

প্রকাশিত: ২১:১৫, ২১ জুন ২০২২

আপডেট: ২১:৪৫, ২১ জুন ২০২২

ফন্ট সাইজ
পদ্মা সেতু: ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রসার ঘটবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে

পদ্মা সেতুকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন্দর ব্যবহারকারী, ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। কারণ পদ্মা সেতুর চালু হওয়ায় সাথে সাথে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের ফলে মোংলা বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবকাঠামোগত যেমন উন্নয়ন হবে তেমনি শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মোংলা বন্দর থেকে সড়ক পথে ঢাকায় পণ্য পরিবহণে সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘন্টা। ফেরি পারাপারের কারণে আগে যেখানে সময় ব্যয় হথো লাগতো ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। এখানে তাদের সময় বাঁচবে ৬ ঘণ্টা। এর ফলে পরিবহন খরচ ও কমে যাবে অর্থনৈতিকভাবে লাভবানও হবেন ব্যবসায়ীরা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, সড়ক পথে পণ্য পরিবহন দেরি ও ফেরি পারাপারে ভোগান্তি হওয়ার কারণে এক সময় ঢাকার ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী ছিলেন না। পদ্মা সেতু চালু হলেই মোংলা বন্দরের ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, সময় ও অর্থের কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ীরা চট্রগ্রামের বিকল্প হিসেবে ‌মোংলাকে ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সংগঠন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকিএমইএ) মোংলা বন্দর ব্যবহারে তার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারের সহায়তায় বিভিন্ন মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহাবুব আহম্মেদ সিদ্দিক বলেন, সেতু চালু হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। মোংলা ইপিজেডএ বিনিয়োগকারীদের কাঁচামাল পণ্য আগে যেখানে জাহাজে করে আসতো এখন আসবে সড়ক পথে। সেতুটি চালু হলেই এই ইপিজেডে বিনিয়োগকারী বাড়বে। ইতোমধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী এ ইপিজেডএ ব্যবসা করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাই বিনিয়োগকারীদের চাহিদানুযায়ী সেবা দিতে মোংলা ইপিজেডএ নতুন আরো ৬২ টি প্লট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মোংলা বন্দর বার্থ-শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনেরসহ সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জিসান ভুট্র বলেন,  রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের বড় বড় মেগা প্রকল্প নির্মাণের মালামাল এই বন্দরের মাধ্যমে আমদানি ও পরিবহণ হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেতুর সুবাদে যা আরো বেশি পরিমাণ হবে। আমরাই এখান থেকে আমদানি হওয়া পণ্য খালাস করে নদী ও সড়ক পথে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে পৌঁছে দিয়ে আসছি। কিন্তু পদ্মায় সেতুর অভাবে সে সব মালামাল দেরিতে পৌঁছেছে। 

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী নৌ ফেরীতে ঘণ্টার ঘণ্টার পর তা আটকে থাকত। কিন্তু এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সেই সমস্যায় আর পড়তে হবেনা। তাই পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও পরিবহণে অনেক সময় বাঁচবে আমাদের। খুবই স্বল্প সময়ে মোংলা বন্দর থেকে যে কোনো পণ্য খালাস হওয়ার পর তা খুব সহজেই পৌঁছে দেওয়া যাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এতে করে নিদিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি আশা করেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দেশের দক্ষিণের অর্থনৈতিক দ্বারকে খুলে দেবে। ফলে এ অঞ্চলে গড়ে উঠবে বিভিন্ন ধরণের ভারী শিল্প কলকারখানা।

বিভি/রিসি

মন্তব্য করুন: