• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

 ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু, পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ

মীর মোহাম্মদ ফারুক, গাজীপুর

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
 ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু, পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ

গাজীপুরের টঙ্গীতে ভুল চিকিৎসায় লাভলী আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।

পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশকে না জানিয়ে স্বজনরা লাশ নিয়ে যায়। খবর পেয়ে নিহতের বাড়ি থেকে লাশ আনতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় স্বজন ও এলাকাবাসী। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৯ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ৫জন আহত হয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এরশাদনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গৃহবধূ লাভলী আক্তার টঙ্গীর এরশাদ নগর ৩ নম্বর ব্লকের জাহাঙ্গীর মিয়ার মেয়ে। সে একই এলাকার সাত নম্বর ব্লকের স্বামী মিজানুর রহমান টিটুর সাথে বাস করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হাজী বাবলু জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পেয়ে ওই হাসপাতালে যায় পুলিশ। এসময় পুলিশকে না জানিয়ে নিহতের স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। 

এক পর্যায়ে এরশাদনগর এলাকায় নিহতের স্বজনদের বুঝিয়ে লাশ আনতে গেলে স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর খালাতো বোন নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, লাভলী টঙ্গী সরকারি কলেজে স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গর্ভাবস্থায় গত মঙ্গলবার তিনি স্নাতক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে বুধবার দুপুরে প্রসব ব্যাথা নিয়ে লাভলী ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাৎক্ষণিক অস্ত্রপ্রচার (সিজার) করা হলে মেয়ে শিশু জন্ম নেয়।  

নাজমা আরও বলেন, হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. সালমা নাহার লাভলীকে অচেতন না করেই সিজার করিয়ে সন্তান প্রসব করায়। সিজারের পরপরই লাভলীর শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে সন্ধ্যায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ফের লাভলীকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে। পরে বিকেল ৪টায় হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যু হয় লাভলীর।

নিহতের স্বামী মিজানুর রহমান টিটু বলেন, ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তারা বলেন কোন সিজারের রোগী এভাবে লাফানোর কথা না। যে চিকিৎসক সিজার করেছে সে-ই বলতে পারবে কিভাবে সিজার করেছে রোগীকে। 

ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ হাসমত আলী বলেন, গাইনি চিকিৎসক সালমা নাহার খুব ভালোমানের একজন চিকিৎসক। এ পর্যন্ত তিনি অনেক রোগীর সিজার করছেন, কিন্তু এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। সিজারের পর রোগীর খিঁঁচুনি শুরু হওয়ায় অবস্থার অবনতি হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আমিও হাসপাতালে যাই। যেহেতু চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে তাই আমরা লাশ ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেই। 

কিন্তু নিহতের স্বজনরা ও উছৃঙ্খল এলাকাবাসী পুলিশকে না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যায়। পরে এরশাদনগর এলাকা থেকে নিহতের স্বজনদের বুঝিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ আনতে গেলে তারা পুলিশের উপর চড়াও হয়। 

একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ৯ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: