শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামীর উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। এছাড়াও আসামীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডিত আসামী মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে রশিদ মিয়া (৫৫)।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ে আরো উল্লেখ করেন, আসামীর কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামী যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভিকটিমকে দেওয়া হবে।
ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দন্ডিত আসামীর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পতি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরও বলেন ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতা ধর্ষক রশিদ মিয়াকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় রাস্ট্র গ্রহণ করবে।
শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরনপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ পূর্বক ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করতে হবে।
টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় প্রতিবেশী সম্পর্কে দাদা দণ্ডিত আসামী রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে। পরে শিশুটিকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা পরিবর্তন হলে শিশু তার মার কাছে ধর্ষনের কথা বলে। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার পিতার বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। পরে ভিকটিম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। পরে আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দন্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ভিকটিমের কন্যা সন্তানের পিতা বলে নিশ্চিত হয়।
আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী একেএম শামীমুল আক্তার।













মন্তব্য করুন: