• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

উপবৃত্তি ও করোনাকালীন অনুদান দেওয়ার প্রলোভনে অর্ধকোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪০, ২৫ মে ২০২২

আপডেট: ১৩:৪১, ২৫ মে ২০২২

ফন্ট সাইজ
উপবৃত্তি ও করোনাকালীন অনুদান দেওয়ার প্রলোভনে অর্ধকোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

করোনাকালীন অনুদান ও উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকটি চক্র। তাদেরকে দীর্ঘদিন অনুসরণ করে ইতিমধ্যে একটি চক্রের মূল হোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপবৃত্তি দেওয়ার নামে কয়েকটি প্রতারক চক্রের প্রতারণাকেণ্ডে অত্যন্ত উৎকন্ঠায় রয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এই খাত সংশ্লিষ্টরা। প্রতারকরা মেসেজ দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের নামে ভুয়া নাম্বার দিয়ে ভুক্তভোগীদের ওই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলে। কোনো সরলমনা শিক্ষার্থী বা অভিভাবক যদি তাদের ফাঁদে পা দেন, তাকে মোটা অংকের টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হতে হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা আইনে মামলা রুজু হয়।

তিনি বলেন, উপবৃত্তি প্রদানের নামে অভিনব কায়দায় প্রতারণার বিষয়টি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। 

এপ্রেক্ষিতে এই প্রতারণার সাথে জড়িত একটি চক্রের মূল হোতা  দ মো. আশিকুর রহমান (২৫) কে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের অপর দুই সদস্য মো. সাইফুল সর্দার (৩০) ও মোক্তার হোসেন (৩৪) কে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

এসএসপি মুক্তা ধর বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, প্রায় ২/৩ বছর যাবৎ উপবৃত্তির নামে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মোবাইল নাম্বারে মেসেজ দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল তারা। প্রথমে শিক্ষাবোর্ডের নামে টার্গেটের মোবাইল নাম্বারে মেসেজ দিয়ে যোগাযোগের নাম্বার হিসেবে চক্রের সদস্যের মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হলেও করোনাকালে উপবৃত্তির টাকা প্রদান বন্ধ রাখা হয়। তারা এই বন্ধের সুযোগ নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরকে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হচ্ছে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অংকের টাকা তারা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়। অথচ পঞ্চম,অষ্টম এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বৃত্তির তালিকা প্রনয়ন করা হয় এবং ওই টাকা এজি অফিস হতে দেয়া হয়। চক্রটি সাধারণতঃ ৩/৪ সদস্যের হয়ে থাকে। চক্রের প্রত্যেক সদস্যের কাজগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়।

প্রথম সদস্য বিকাশ/নগদ/রকেটের দোকানে টাকা বিকাশ করার কথা বলে দোকানে অবস্থান নেয়। কৌশলে বিকাশ গ্রাহকের লেনদেনের খাতার ছবি তুলে নেয় তারা। ঐ ছবি ইমু/মেসেঞ্জার/হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেয়। 

দ্বিতীয় সদস্যের কাজ হচ্ছে- পিন কোড সংগ্রহ করা। সে ভিক্টিমকে কল করে কথাবার্তার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে। এক পর্যায়ে উপবৃত্তির যে পরিমান টাকা প্রদান করা হবে মর্মে ঘোষণা দেয়া হয় তার সাথে পিন কোডটি যোগ/ বিয়োগ করে চক্রের প্রথম সদস্যকে বলতে বলা হয়। ভিক্টিম ফাঁদে পড়ে পিন কোডটি যোগ/ বিয়োগ করে চক্রটিকে তথ্য দেয়।

তৃতীয় সদস্য- তখন প্রাপ্ত পিন কোডটি অসংখ্য বিকাশ/নগদ/রকেট এ্যাপ সম্বলিত অপর একটি এন্ড্রয়েট ফোনের এ্যাপ এ লগ-ইন করলে ভেরিফিকেশন কোড যায় ভিক্টিমের নম্বরে। তখন দ্বিতীয় সদস্য উক্ত ভেরিফিকেশন কোডটি ভিক্টিমের নিকট থেকে নিয়ে নেয়। যখনই ভিক্টিমের নাম্বারে কোথাও হতে ক্যাশ ইন হয়, তাৎক্ষণিকভাবে দলের তৃতীয় সদস্য উক্ত টাকা তাদের দলনেতার কাছে থাকা বিকাশ/নগদ/রকেট এ রেজিস্ট্রেশন করা নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে দলনেতা প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহিত টাকাগুলো বিভিন্ন জেলায় অবস্থানরত তাদের পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে পুনরায় বিভিন্ন নাম্বার থেকে আবার দলনেতার নাম্বারে নিয়ে আসে। পরে দলনেতা ওই টাকাগুলো ক্যাশ আউট করে প্রত্যেক সদস্যকে বিভিন্ন হারে টাকাগুলো বন্টন করে দেয়। মূলতঃ দলনেতাই ভুয়া এনআইডিতে রেজিস্ট্রেশন করা সিমকার্ডগুলো সংগ্রহ করে দলের সদস্যদেরকে সরবরাহ করে থাকে। 

এই চক্রটি করোনাকালীন সময়ে অনুদান দেয়া হচ্ছে এবং উক্ত অনুদান পাওয়ার জন্য পিন কোড ও ভেরিফিকেশন কোডটি তাদের দিতে হবে মর্মে প্রভাবিত করে তাদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড নিয়ে মোবাইলে আর্থিক লেনদেনের প্লাটফর্ম ব্যবহার করেও প্রতারণা করে আসছিল।

চক্রের সব সদস্যের সম্মিলিত প্রয়াসে উপবৃত্তি প্রতারণার কাজটি তারা অত্যন্ত সুনিপুনভাবে করে থাকে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমান টাকায় তারা বিলাস বহুল জীবন যাপন করছে। 

তাদের সঙ্গে আর কোন কোন চক্রের যোগসাজস রয়েছে এবং অন্য কেউ তাদেরকে একাজে সহযোগিতা করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসএসপি মুক্ত ধর।

 

বিভি/এসএইচ/রিসি

মন্তব্য করুন: