• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে খাসজমি দেওয়ায় সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ৪ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১২:২৯, ৬ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে খাসজমি দেওয়ায় সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে মামলা

কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে ৪২ জনের নামে খাসজমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ইউএনওর কার্যালয় থেকে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলার ১৯৫ জন ভূমিহীনের তালিকা তৈরি করে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির এ তালিকায় আরও ৪২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এই ৪২ জনের নামে ৭২ একর ৬৩ শতাংশ খাসজমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির ইউএনওর স্বাক্ষর স্ক্যান করে নতুন তালিকা সাবরেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন। পরে সাবরেজিস্ট্রার খাসজমি কবুলিয়ত রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন।

সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক

উপজেলা ভূমি অফিসের গত ২৮ মার্চ ইস্যুকৃত ১ নম্বর স্মারকে ২২ জন ভূমিহীনের স্থলে ৩১ জন, ২৪ এপ্রিল ২ নম্বর স্মারকে ১২০ জন ভূমিহীনের স্থলে ১৩২ ও ৯ মে ৩ নম্বর স্মারকে ৫৩ জন ভূমিহীনের স্থলে ৭৪ জন ভূমিহীন দেখিয়ে কবুলিয়ত রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। সরকারি ওই খাসজমির আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি টাকা। এই জালিয়াতির মাধ্যমে হুমায়ুন কবির সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা করে নিয়েছেন। অতিরিক্ত ৪২টি কবুলিয়াত রেজিস্ট্রির কোনো বন্দোবস্ত নথিপত্র ভূমি অফিসে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করাহয় মামলার এজহারে।

কলাপড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অবৈধ উপায়ে সরকারি খাসজমি অন্যদের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে দেওয়ার জন্য হুমায়ুনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছি। তবে তিনি (হুমায়ুন) কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে আসছেন না। এ নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযু্ক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।’

ইউএনওর স্বাক্ষর জালিয়াতিতে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির বর্তমানে পলাতক

ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রত্যেক ভূমিহীনকে ২ শতাংশ করে খাসজমি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাঁদের তালিকা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। সাবরেজিস্ট্রার তালিকা দেখে রেজিস্ট্রি করবেন, এটাই নিয়ম। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরকে ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ সুযোগে তিনি অতিরিক্ত ৪২ জনের নামে খাসজমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। এই ৪২ জনের নামে কোনো খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।

ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ‘সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির আমার স্বাক্ষর স্ক্যান করে নতুন তালিকা সাবরেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন আর তালিকা যাচাই না করে খাসজমি রেজিস্ট্রি করেছেন সাবরেজিস্ট্রার। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। জেলা প্রশাসককেও এ ঘটনার বিস্তারিত লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

সাবরেজিস্ট্রার রেহেনা পারভীন বলেন, ‘ভূমিহীন-গৃহহীনদের দলিল ও ইউএনওর সই দেখে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। সরল বিশ্বাসের কারণে তালিকা যাচাই করিনি। ওই সব কবুলিয়ত দলিল বাতিল করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান রেহেনা পরভীন'।

মন্তব্য করুন: