• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হঠাৎ স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন, কারণ কী?

প্রকাশিত: ১৫:২২, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হঠাৎ স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন, কারণ কী?

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই গতি মন্থর স্বর্ণ ও রুপার বাজারের। কয়েক দিনের ব্যবধানে বড় ধরনের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

এখন প্রশ্ন এই পতন কি দীর্ঘমেয়াদি, নাকি আবার ঘুরে দাঁড়াবে মূল্যবান ধাতুর বাজার?

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৮০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। তবে পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) একদিনেই প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায় স্বর্ণের দাম, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন। বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দাম আরও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৫ ডলারে। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সম্প্রতি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার দিকে ঝুঁকছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমতে পারে এমন প্রত্যাশা, যার ফলে ডলার দুর্বল হয় এবং স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়।

স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে কল অপশন কেনার প্রবণতাও বড় ভূমিকা রাখে। একই সময়ে রুপার বাজারেও দেখা যায় অস্বাভাবিক উত্থান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রতি আউন্স রুপার দাম ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়ে। তবে এরপর দ্রুত দরপতন শুরু হয়। সোমবার পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ৪১ শতাংশ কমে নেমে আসে ৭২ ডলারের কাছাকাছি।

বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পখাতে চাহিদা বাড়বে এমন প্রত্যাশা এবং জল্পনাভিত্তিক লেনদেনের কারণে রুপার দাম দ্রুত বেড়েছিল। ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে রুপার ব্যবহার বাড়ছে।

তবে বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। প্রথমত, শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেন। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অভিজ্ঞ ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ওয়ার্শ দায়িত্ব নিলে সুদহার দ্রুত কমানোর ওপর হোয়াইট হাউসের চাপ কমবে এমন ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে ডলার শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং স্বর্ণ-রুপার ওপর বিক্রির চাপ বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, শিকাগো মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (সিএমই) স্বর্ণ ও রুপার ফিউচার চুক্তিতে মার্জিন চাহিদা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে অনেক বিনিয়োগকারী বাধ্য হয়ে অবস্থান বিক্রি করতে শুরু করেন।

তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বিশ্লেষকরা। সিএমসি মার্কেটসের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রধান ক্রিস্টোফার ফোর্বস বলেন, বড় উত্থানের পর এমন সংশোধন স্বাভাবিক। ডলার দুর্বল হলে বা নতুন ফেড চেয়ারম্যান নমনীয় অবস্থান নিলে বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণের বাজারে ফিরবেন।

জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৬ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। একই সঙ্গে ডয়চে ব্যাংক জানিয়েছে, স্বর্ণ কেনার আগ্রহ এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তা সহজে কমবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পখাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও দীর্ঘদিন ধরে খনিখাতে কম বিনিয়োগের কারণে ভবিষ্যতে রুপার দামও আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: ডয়চে ভেল

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: