• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

মানসিক বিপর্যস্ততা থেকেই ‘মন ভালো নেই’ লেখেন ওই শিক্ষার্থী! 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২২, ৩০ জুন ২০২২

ফন্ট সাইজ
মানসিক বিপর্যস্ততা থেকেই ‘মন ভালো নেই’ লেখেন ওই শিক্ষার্থী! 

পরীক্ষার অতিরিক্ত উত্তরপত্রে ‘স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই’ লেখা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সেই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানান এই শিক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে এই শিক্ষার্থী এসব কথা বলেন।

সেই শিক্ষার্থী তার ব্যাখ্যায় বলেন, করোনার মধ্যে দীর্ঘ সময়ে একা থাকাসহ নানা কারণে আমি মানসিকভাবে চাপ ও প্রচণ্ড একাকীত্ব অনুভব করি। আমার পরিবার ও বেশকিছু বন্ধুবান্ধবও বিভিন্ন সময়ে আমার এই পরিবর্তনের ব্যাপারে বলেছে। উত্তরপত্রের বিষয়টি এভাবে প্রকাশের পর আমি আরও বেশি মানসিক চাপে আছি। 

শিক্ষার্থী বলেন, আমি পরীক্ষার হল থেকে কোনো বিশেষ কারণ বা সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু চিন্তা করে অতিরিক্ত উত্তরপত্রটি নেইনি। উক্ত উত্তরপত্রটি আমার কোন পরীক্ষার সরাসরি কোন অংশও ছিল না। গত ১২ থেকে ১৫ মে তারিখে আমার প্রথম মিডটার্মের যেকোন একটা কোর্সের পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার সময় অতিরিক্ত উত্তরপত্রটি ক্লাসের একটি টেবিলের উপরে পড়ে থাকতে দেখি এবং  উত্তরপত্রটি অপ্রয়োজনীয় ভেবে কোনো কিছু চিন্তা না করে উক্ত উত্তরপত্রটি তখন আমি বাসায় নিয়ে আসি।

আমি আমার কোনো সম্মানিত শিক্ষকের স্বাক্ষর জালিয়াতিও করিনি কিংবা জালিয়াতির কথা চিন্তা করেও স্বাক্ষরটি করিনি। স্বাক্ষরটির সাথে আমার সম্মানিত কোনো শিক্ষকের স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই।

‘স্যার আজকে আমার মন ভালো নেই’ বাক্যটি নির্দিষ্ট কিছু চিন্তা ভাবনা না করে শুধুমাত্র নিছক মজার ছলেই ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেন বলেও দাবি করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার কাছে বিষয়টি ঠিক মনে হয়নি এবং তখনই পোস্টটা ডিলিট করে দেই। কিন্তু বিষয়টা পরে আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আসলে আমি কল্পনাতেও ভাবিনি যে বিষয়টা শেষ পর্যন্ত এতো মারাত্মক আকার ধারণ করে আমার ব্যক্তিগত জীবনে এবং আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানে এভাবে প্রভাব ফেলবে। 

ওই শিক্ষার্থীর দাবি তিনি এখন অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, মিডটার্ম পরীক্ষা শেষে পাওয়া উক্ত অতিরিক্ত উত্তরপত্রটি বিভাগে জমা না দিয়ে বাসায় নিয়ে আসা তার সমীচীন হয়নি।  সেইসাথে ওই শিক্ষার্থী স্বীকার করেন যে, শুধুমাত্র মজার ছলে উত্তরপত্রটিতে স্বাক্ষরসহ এইসব লিখে ফেসবুকে পোস্ট করাটাও তার অপরাধ হয়েছে।

বিষয়টিকে ভুল দাবি করে ওই শিক্ষার্থী নিজের ভুলের জন্য অত্যন্ত অনুতপ্ত প্রকাশ করেছেন পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকানুন সম্পর্কেসম্যক ধারণা কম থাকায় মানবিক দৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.মোস্তফা কামাল বলেন, ওই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তারপর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিভি/এসি/এজেড

মন্তব্য করুন: