• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

ছাত্রী হলের জানালায় স্বচ্ছ কাঁচ, নেই পর্দা টানানোর ব্যবস্থাও 

মুুরাদুল মুস্তাকীম মুরাদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় 

প্রকাশিত: ১৩:০১, ৩ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৪:১৭, ৩ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
ছাত্রী হলের জানালায় স্বচ্ছ কাঁচ, নেই পর্দা টানানোর ব্যবস্থাও 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া শেখ হাসিনা হলটি রাস্তার পাশে হওয়ায় এবং হলের কক্ষের জানালাগুলোয় সাদা কাঁচ ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বিশেষত রাতের বেলায় কক্ষে বাহিরের দৃষ্টি এড়াতে জানালাগুলোতে পর্দা টানানোর জন্য করা হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

এমন পরিস্থিতিতে হলে অবস্থান করা কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বিব্রত আবাসিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, এমনিতে হলটি হস্তান্তরে কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর নষ্ট করেছে। এখন হস্তান্তর হওয়ার পরে আমাদের ব্যক্তিগত এবং সার্বিক নিরাপত্তার এই দশা। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। 

সরেজমিনে দেখা যায়, হলটির দক্ষিণে রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল এবং গাড়ি পারাপারের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট ও বহুতল কয়েকটি ভবন। এছাড়াও উত্তর-পশ্চিম কোনে রয়েছে শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের ডরমেটরি। এতে কক্ষে জানালার গ্লাসগুলো সাদা এবং পর্দার ব্যাবস্থা না থাকায় বাহির থেকে ভিতরে ছাত্রীদের অবস্থান এবং গতিবিধি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। 

লোকপ্রশাসন বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী ফাইজা মেহজাবিন বলেন, প্রশাসনের বুঝা উচিত ছিলো এটা মেয়েদের হল। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টা বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা উচিত ছিলো। যারা হলটির হ্যান্ডওভার কমিটিতে ছিলেন তারা কিভাবে এমন স্পর্শকাতর বিষয় এড়িয়ে গেছেন বোধগম্য নয়। জানালাগুলোতে পর্দার ব্যবস্থা করা হবে সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি বাদ দিয়ে হল কেন উদ্বোধন করল বুঝতে পারলাম না।

অর্থনীতি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষর্থী সাদিয়া আফরিন মোহনা বলেন, যদি কালার থাই দেওয়া হত তাহলে ভিতরের কিছু দেখা যেত না। নিজেরা যে পর্দা লাগাবো, সেটারও কোনো সুযোগ নেই। রাতে আলো জ্বালালে বাহির থেকে সবকিছু দেখা যায়। তাহলে প্রাইভেসি কোথায় থাকলো!

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদারক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়ছে সেভাবে আমি কাজ শেষ করেছি।

প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার এস. এম শহীদুল হাসান বলেন, টেন্ডারে যেভাবে প্লান ছিলো সেভাবে কাজ করা হয়েছে। এই সমস্যা থেকে ওভারকাম করার জন্য প্রস্টেট পেপার লাগানোর জন্য কত টাকা খরচ হবে ভিসি স্যার বাজেট করতে বলছে। এখন টাকা পেলে সেটি লাগানো হবে, না হয় লাগানো যাবে না।

শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক মো. সাহদেুর রহমান বলনে, হস্তান্তর কমিটি এটা কিভাবে বুঝে নিয়েছে আমি জানি না। আমি জয়েন করার পর ভিসি স্যার যখন হল ভিজিটে এসেছিলেন তখন ব্যাপারটা তিনি দেখেছেন এবং সাথে সাথেই ইঞ্জিনিয়ারকে জানিয়েছেন। স্যার হয়ত এটার একটা এস্টিমেশন নিয়েছেন। আর এটার ব্যাপারে আমি ভিসি স্যারের সাথে আবার কথা বলবো।

জানতে চাইলে হস্তান্তর কমিটির আহ্বায়ক কাজী ওমর সদ্দিকী বলনে, আমার কাজ হচ্ছে বিল্ডিং এর কাজ সঠিক সময়ে শেষ করছে কিনা এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা এসব দেখা। এটার গুণগত মান ঠিক আছে কিনা এটা আমার দেখার বিষয় না।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আব্দুল মঈন বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি। প্রস্টেট পেপার লাগাতে কতদিন সময় লাগবে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এটা যদি আজকে পারা যায়, তাহলে আজকেই লাগানো হবে। তবে আশাকরি বেশিদিন সময় লাগবে না।


 

বিভি/রিসি

মন্তব্য করুন: