• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

যৌনপল্লীর মাজার, নানা লোককথা

সৈয়দ তারিক

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
যৌনপল্লীর মাজার, নানা লোককথা

শরণ দেবীর কথা শুনেছিলাম লোকপরম্পরায়। অনেক কাল আগে টাঙ্গাইলের যৌনপল্লীতে এক নারীকে বলপূর্বক আনা হয়েছিল। তিনি ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী এক সাধিকা। তিনি তার কর্ত্রীকে বললেন, 'আমাকে নিয়ে আসা হয়েছে, আমি এখানেই থাকব, কিন্তু আমাকে দিয়ে ওইসব কাজ করাবেন না, ওগুলো আমাকে দিয়ে হবে না।' 

শোনা যায়, তবু তার ঘরে খদ্দের পাঠানো হয়, কিন্তু কেউ উপগত হতে পারে নি, বরং নানা রকম ঘটনা ঘটে। কারো যৌনক্ষমতাই লুপ্ত হয়ে যায়, কেউ মনোদৈহিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, কেউ-বা অন্য কোনোভাবে আক্রান্ত বা পীড়িত অনুভব করে। কাহিনিগুলি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে ফলে তার ঘরে আর কেউ লিপ্সা নিয়ে আসত না। তিনি তার সাধন-ভজন নিয়েই ব্যাপৃত থাকতেন। 

একসময় তিনি দেহান্তর প্রাপ্ত হন। তারপর ওখানে সমাধিমন্দির বা মাজার শরিফ গড়ে ওঠে। পল্লীর নারীরা তাকে অত্যন্ত ভক্তি-মান্য করেন। ওখানে ওরস মাহফিল  হয়। পল্লীর সামনের চা-দোকানের দোকানি জানালেন, তিনি ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছেন এটি মা ফাতেমার মাজার। মহররমের সময় সিন্নির বড় অনুষ্ঠান হয়। বহিরাগত অনেক ভক্ত-আশেক মানুষ এতে সমবেত হন। তবারক গ্রহণ করেন সবাই।

একুশ শতকের শুরুর দিকে ভূমিলোভীদের অপচেষ্টায় পুরো পল্লীটাকে ভেঙেচূড়ে নারীদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আগের মাজারটিও তখন ধূলিসাৎ হয়েছিল। পরে যখন পল্লীটির পুনর্নির্মাণ হয়, নতুনভাবে মাজারটিও গড়ে ওঠে।
এবার টাঙ্গাইলে যাবার একটা বড় কারণ ছিল মাজার শরিফটি একবার জেয়ারত করে আসবার আকর্ষণ। 
 

মন্তব্য করুন: