• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

জলাভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ইকো-পরিবেশ উন্নত করেছে চীন

বুশরা আরবী

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১৪ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
জলাভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ইকো-পরিবেশ উন্নত করেছে চীন

সংগৃহীত ছবি

চীনের একাধিক অঞ্চলে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং তাদের জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জলাভূমি সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুঝো শহরের ইউজিক্সি ইকোলজিক্যাল ওয়েটল্যান্ড পার্কটি দেশটির দীর্ঘতম নদী ইয়াংজি নদীর কয়েকটি উপনদী দ্বারা গঠিত একটি জলাভূমি। দুর্বল পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার কারণে, জলাভূমিটি মারাত্মকভাবে সঙ্কুচিত হয়েছিল ও জলের বাস্তুতন্ত্রের খারাপভাবে অবনতি হয়েছিল, যা স্থানীয় মানুষের জীবনকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল।

 

 ২০১৭ সালে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জলাভূমি ইকোসিস্টেম উন্নত করতে এবং বন্যা প্রতিরোধের জন্য একটি ব্যাপক পরিবেশগত পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুরু করে। লুঝো শহরের পরিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির উপ-পরিচালকজি হংলিয়াং জানান, ‌'প্রাকৃতিক জলাভূমি পুনরুদ্ধার করে, কাছাকাছি পাহাড় থেকে জলপ্রবাহকে আটকে, 'স্পঞ্জ' সুবিধা তৈরি করে, এবং আশেপাশের জমিতে বৃষ্টির পানি সরানো, সঞ্চয় এবং বিশুদ্ধ করার জন্য স্পঞ্জ সুবিধা তৈরি করে, আমরা কার্যকরভাবে এলাকার বন্যার পানি সঞ্চয় ও খরা প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করেছি।'

বছরের পর বছর ধরে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায়, ইউজিক্সি জলাভূমি পার্ক অতিথি পাখিদের জন্য একটি স্বর্গ এবং বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এটি এখন শহরের পরিবেশগত ঢাল হিসেবে কাজ করছে।

মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের মিনকুয়ান ন্যাশনাল ওয়েটল্যান্ড পার্ক হল ইয়োলো রিভারের পূরনো পথে আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একমাত্র জলাভূমি। ১৮৫৫ সালে নদীটি যখন গতিপথ পরিবর্তন করে এবং প্রচুর পরিমাণে বালি এবং কাদা নিয়ে আসে তখন সেখানে একটি ভূতাত্ত্বিক নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। এলাকাটি তখন বালুঝড় ও জলাবদ্ধতায় জর্জরিত ছিল।
ইয়োলো রিভারের পানির উপর ভিত্তি করে, মিনকুয়ান কাউন্টি জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিথি পাখির সংখ্যা ২০১৩ সালে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে গত বছর ৮০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

জলাভূমি এখন প্রথম শ্রেণীর জাতীয় সুরক্ষার অধীনে ছয়টি বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থল

জলাভূমি এখন প্রথম শ্রেণীর জাতীয় সুরক্ষার অধীনে ছয়টি বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থল। তাদের মধ্যে একটি হল বিপন্ন প্রজাতির হাঁস আইথ্যা বারিযা । কাউন্টিটিতে ৩৬০ টি এই ধরনের হাঁস রয়েছে, যা বিশ্বের এই ধরণের মোট হাঁসের প্রায় ২২ শতাংশ।

 ২০১৬ সাল থেকে, চীনের কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে জলাভূমি সুরক্ষা এবং পুনরুদ্ধারকে এগিয়ে নিতে ৯২টিরও বেশি প্রকল্পে ২.৯৪৪ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৪১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার) ব্যয় করেছে।

সর্বশেষ ভূমি সম্পদ জরিপ অনুসারে চীনে এখন জলাভূমি, সৈকত এবং হ্রদসহ ৫৬.৩৫ মিলিয়ন হেক্টর জলাভূমি রয়েছে। দেশে আন্তর্জাতিক গুরুত্বের ৬৪টি জলাভূমি এবং জাতীয় গুরুত্বের ২৯টি জলাভূমির পাশাপাশি ৯০১টি জাতীয় জলাভূমি পার্ক রয়েছে।

চীনের জনগনের এধরণের প্রকল্পগুলো সত্যিকার অথেই প্রসংশার ও অনুকরনীয় উদাহরণ। আমরাও আমাদের নদীমাতৄক বাংলাদেশকে নিয়ে কিছু অসাধারণ চিন্তা করতেই পারি যা সমগ্র বিশ্বে উদাহরণ হবে।

মন্তব্য করুন: