• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ক্রমশ চাঙ্গা হচ্ছে বৈশ্বিক পর্যটনশিল্প

প্রেমা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ

প্রকাশিত: ১৫:০৭, ১৭ জানুয়ারি ২০২৩

ফন্ট সাইজ
ক্রমশ চাঙ্গা হচ্ছে বৈশ্বিক পর্যটনশিল্প

সম্প্রতি চীনের সরকার মহামারী প্রতিরোধসংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ অনেকটা শিথিল করেছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের এখন আর কোয়ারিন্টিনে থাকতে হবে না। ফলে, বিদেশ থেকে চীনে আসা যাত্রীদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদেশগামী চীনা পর্যটকের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বৈশ্বিক পর্যটন বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকটি দেশ চীনা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছে। বিভিন্ন এয়ালাইন্স ধীরে ধীরে বিভিন্ন রুটে তাদের ফ্লাইটসংখ্যা মহামারী-পূর্ববর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 


১৭ জানুয়ারি বেইজিং তাসিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের জন্য খুলে দেওয়া হবে। মহামারী শুরুর পর থেকে বিগত তিন বছর ধরে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানগুলার জন্য নবনির্মিত এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।  

চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের উত্তর চীন বিপণনকেন্দ্রের ভাইস জেনারেল ম্যানেজার জেং ইউয়ে জানান, ১৭ জানুয়ারি কোম্পানি তাসিং-হংকং রুটে যাত্রী পরিবহন পুনরায় শুরু করবে। পাশাপাশি, খুব শিগগিরি চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স তাসিং বিমানবন্দরের সাথে সিউলের জিম্পো ও সিউলের ইনচেন বিমানরুট পুনরায় চালু করবে। তাসিং-আমস্টারডাম ও তাসিং-ইস্তাম্বুল রুটেও খুব শিগগিরি এ এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানগুলো চলাচল শুরু হবে। চলতি বছরের গ্রীষ্ম ও শরতেই এটা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিমালয় এয়ারলাইন্স প্রাইভেট লিমিটেড হলো তাসিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পুনরায় চালু করা প্রথম বিদেশী এয়ারলাইন্স। চীনে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার জানান, ২০২০ সালে কোম্পানির এই রুটের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়েছিল। এখন আবার তা চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন-নেপাল সরাসরি ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হলো। বিমানরুটটি বেইজিং ও কাঠমান্ডুর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ও সুবিধাজনক আকাশপথ।

তাসিং-আমস্টারডাম ও তাসিং-ইস্তাম্বুল রুটেও খুব শিগগিরি এ এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানগুলো চলাচল শুরু হবে

এদিকে, সম্প্রতি চায়না ইস্টার্নের আন্তর্জাতিক রুটগুলোও ক্রমশ পুনরুদ্ধার হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে এয়ারলাইনসের সাপ্তাহিক আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট ৪৮টি থেকে বাড়িয়ে ১৮৪টিকে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে।
বিশ্বের যেসব দেশ থেকে সবচয়ে বেশি বিদেশগামী ফ্লাইট চলাচল করে, চীন সেসব দেশের অন্যতম। মহামারীসংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ শিথিল হবার পর, চীন থেকে বিদেশগামী যাত্রীবাহী ফ্লাইট ধীরে ধীরে বাড়ার ফলে, বিদেশগামী চীনা পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে। অনেক দেশ, দীর্ঘ তিন বছরের বিরতির পর, চীনা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে উত্সাহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।
সম্প্রতি থাই উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে, চীনের মহামারীসংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ শিথিলের পর, প্রথম দফা চীনা পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানান। থাই বিমান চলাচল ব্যুরো জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের প্রায় ৩৩৮টি চীন থেকে আসা ফ্লাইট সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। দেশটির পর্যটন ব্যুরো বলছে, চীনা পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি  থাই পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে সাহায্য করবে। অনুমান করা হচ্ছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে থাইগামী চীনা পর্যটকের সংখ্যা ৩ লাখ এবং সারা বছরে ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেন সম্প্রতি বলেছেন, চীনের জন্য কম্বোডিয়া একটি ‘আকর্ষণীয় পর্যটনস্থান’। চলতি বছর দেশটি ২০ লাখ চীনা পর্যটককে অভ্যর্থনা জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটা দেশটির অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
ওদিকে, মালয়েশিয়া ২০২৩ সালে ১৫ থেকে ২০ লাখ চীনা পর্যটককে অভ্যর্থনা জানাতে তৈরি হয়েছে। আর সিঙ্গাপুর আশা করছে, চীনা পর্যটকরা দেশটির জন্য বার্ষিক অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন সিঙ্গাপুরি ডলার আয় বাড়াতে সাহায্য করবেন।
এসব দেশ ছাড়াও, আরও কিছু দেশ চীনা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে। ফ্রান্সের দূতাবাস এবং থাইল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের পর্যটন ব্যুরোগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে চীনা পর্যটকদের স্বাগত জানিয়েছে।
থোংছেং পর্যটন গবেষণালয়ের প্রধান গবেষক ছেং ছাওকুং বলেন, চীনের পর্যটনশিল্প বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।  বেশকিছু দেশের বিদেশি পর্যটকের প্রধান উত্স হচ্ছে চীন। চীনের বিদেশিগামী পর্যটকের সংখ্যাবৃদ্ধি বৈশ্বিক পর্যটনশিল্পের জন্য একটি বড় সুখবর। সংশ্লিষ্ট অনেক দেশের পর্যটন-অর্থনীতির সার্বিক পুনরুদ্ধারেও চীনা পর্যটকরা শক্তিশালী চালিকাশক্তি যোগাবে। 
সম্প্রতি চীনে প্রকাশিত পর্যটনসংশ্লিষ্ট এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা পর্যটকদের বিদেশভ্রমণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পর্যটকদের আস্থা ক্রমশ পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং তাঁরা দূর-দূরান্তের পর্যটনস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ভাইস জেনারেল ম্যানেজার জেং ইউয়ে বলেন, চীন থেকে বিদেশগামী আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পাশাপাশি, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদেশগামী চীনা পর্যটকের সংখ্যাও। এতে, শুধু বিভিন্ন দেশের পর্যটনশিল্প উপকৃত হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। 


 

মন্তব্য করুন: