• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১ | ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

দেশে হাজারে ১১.৪ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত, বাড়ছে ১০০% হারে

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ২৭ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ২০:৩৯, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ফন্ট সাইজ
দেশে হাজারে ১১.৪ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত, বাড়ছে ১০০% হারে

উন্নত দেশগুলোতে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার কমলেও ভয়াবহভাবে বেড়েছে বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশে। তথ্য বলছে, উন্নত দেশগুলোতে স্ট্রোক আক্রান্তের হার ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। অপরদিকে উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশে বেড়েছে ১০০% হারে। বাংলাদেশের সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে, প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে ১১.৪ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত। যার মধ্যে ৫৪ শতাংশই দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বুধবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ঢামেক-এর নিউরোসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম।

অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৪৮ জনেরই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। এছাড়া, স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৩৬ রোগী অনিয়মিত জীবন যাপন করেন।

স্ট্রোকে আক্রান্ত ১৯ শতাংশ রোগীর দেহে অতিরিক্ত মেদ থাকে। ১৭  শতাংশ রোগী মানসিক চাপের শিকার। এছাড়া অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে স্ট্রোক হতে পারে। বাংলাদেশে চার জনের জনের জনের স্ট্রোক হয়। দেশের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও তুলে ধরা হয় প্রবন্ধে।

স্ট্রোকে আক্রান্ত  রোগীকে চার ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হলে খুব সহজে সম্পূর্ণসুস্থ হওয়া সম্ভব বলে জানিয়ে তিনি বলেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ভালো। স্ট্রোক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য। 

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে ফাস্টফুড ও ধূমপান ত্যাগ করা, ব্লাডপেশার আর সুগার থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, লক্ষণ দেখার সংগে সংগে অবহেলা না করে হাসপাতালে নেওয়া ও সর্বোপরি জনসচেতনতা জোর দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। 

বলেন, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, চোখে ঘোর দেখা, চেহারা পরিবর্তন হওয়া, বাহু অবশ হওয়া, কথা বলার সময় জড়তা চলে আসা এসব লক্ষণ দেখা দিলে সংগে সংগে চিকিৎকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক, সিএমএইচ-এর রেডিওলজি ও ইমেজিং বিশেষজ্ঞ ব্রি. জে. সৈয়দ জহিরুল আলম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. দোবশীষ চন্দ্র তালুকদার, নিউরো সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

ঢামেক-এর নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে অপারেশন প্রয়োজন এমন ১০ জনের বেশি স্ট্রোকের রোগী আসেন। তবে দিনে তিন জনেরও সার্জারি করা সম্ভব  হয় না। আমরা চাই সবাইকেই সময়মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিতে। স্ট্রোক রোগীদের আইসিইউ ও এসডিইউ  অনেক বেশি প্রয়োজন। ঢামেকে এখনও সেটা বসানো সম্ভব হয়নি। 

নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, রোগীর ঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে নিউরোলজি বিভাগের একটি আইসিইউ ইউনিট খুলতে হবে। তাহলে অনেক রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। এই জন্য সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তবে আমরা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। স্ট্রোক রোগীদের জন্য আগে ক্যাথ ল্যাবও ছিলো না। ল্যাব চালু হয়েছে এখন আমরা স্ট্রোক ডেডিকেটেড শয্যা সংযুক্তির চেষ্টা করছি। আশা করছি অতি অল্প সময়ে আমরা স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আরও এগিয়ে যাবো।

 

বিভি/কেএস/রিসি 

মন্তব্য করুন: