• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

মঙ্গলে গবেষণা চালাচ্ছে পারসিভেরান্স রোভার

তৌফিকুল ইসলাম পিয়াস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ৩ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৬:২৪, ৩ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
মঙ্গলে গবেষণা চালাচ্ছে পারসিভেরান্স রোভার

পারসিভেরান্স রোভার নিজের এই সেলফিটি নিজেই তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে

এটা মঙ্গলের ছবি। পারসিভেরান্স রোভার নিজের এই সেলফিটি নিজেই তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। 
প্রায় ১ বছরের বেশী হয়ে গেলো পারসিভেরান্স রোভার মঙ্গলের মাটিতে ঘুড়ে বেরাচ্ছে, ছবি তুলছে; আবার সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টার ইনজিনুইটিকেও উড়াচ্ছে!
এসব কি বিশ্বাস করা কথা? 

মঙ্গলে গবেষণা চালচ্ছে পারসিভেরান্স রোভার
পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয়। 
২০০৩ সালের মাহে আগস্টে সবুজ গ্রহ পৃথিবী থেকে লাল গ্রহ মঙ্গলের দূরত্ব হয়েছিলো ৩৪.৮০ মিলিয়ন মাইল। 
যেহেতু সূর্য ও বৃহস্পতি গ্রহের ভরকে কেন্দ্র করে ঘুর্ণায়মান পৃথিবী এবং মঙ্গলের কক্ষপথ সম্পূর্ণ ভিন্ন তাই পৃথিবী ও মঙ্গলের দূরত্ব সবসময় একই রকম থাকে না। কখনও এই দূরত্ব বেড়ে হয়ে যায় ২৫০ মিলিয়ন মাইল। আবার কখনও তা হয়ে যায় ৩৩.৯০ মিলিয়ন মাইল। 
২২৩৭ সালে মঙ্গল আর পৃথিবী আবারও ৩৪.৮০ মিলিয়ন মাইল দূরত্বে চলে আসবে-যা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে হয়ে থাকে। 
এত দূরে থাকা একটা গ্রহ সেখানে কিভাবে নাসার বিজ্ঞানীরা পারসিভেরান্স রোভারকে অপারেট করছে? সেখানকার বায়ুমঙ্গল এর ঘনত্বও পৃথিবীর চেয়ে অনেক অনেক গুন কম। সেই কম ঘনত্বের বাতাসে কিভাবে হেলিকপ্টার উড়াচ্ছে - তাও আবার ২৫০ মিলিয়ন মাইল দূরে বসে? 

যারা ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালে মাত্র ২৩৮, ৯০০ মাইল দূরের উপগ্রহ চাঁদে মানুষের যাত্রা মেনে নিতে পারেন নাই - তারা কি এসব বিশ্বাস করে? 
মাত্র ২৩৮.৯ হাজার মাইল দূরের যাত্রাকেই যারা মেনে নিতে পারেন নাই - তারা কিভাবে ২৫০ মিলিয়ন মাইল দূরের ভিন্ন মাটিতে গাড়ী চালানো মেনে নিবে?
১৯৭২ সালের পর নাসা চাঁদে আর কোনও মানুষের অভিযান পরিচালনা করেনি; কারণ তা লাভজনক ছিলো না। কিন্তু তাই বলে নাসা তাদের মহাকাশ গবেষনা বন্ধ করে বসে থাকেনি। 
নাসায় প্রায় ৩৪ হাজার বিজ্ঞানী গবেষনা করে। একজন আমেরিকান গবষেকের বার্ষিক বেতন সম্পর্কে যদি কারো ধারণা থাকে তাহলেই সে বুঝতে পারবেন নাসার পেছনে আমেরিকা কত টাকা ব্যয় করে চলছে। 

১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে নাসা ভয়েজার -১ মহাশূন্যে প্রেরণ করে যা এখনও চলমান এবং সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহকে পাশ কাটিয়ে তা সোলার সিস্টেমের বাইরে চলে গেছে এবং এই মুহূর্তে তার অবস্থান আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন মাইল দূরে। সে এখনও মানব সভ্যতার রেকর্ড নিয়ে ছুটে চলছে অজানার মহাশূন্যে। 
শুধুমাত্র ভয়েজার ১ নয়; ভয়েজার ২কেও নাসা ১৯৭৭ সালের আগস্টে মহাশূন্যে ভয়েজার ১ এর বিপরীত দিকে রাস্তায় উৎক্ষেপন করে যা এখনও ওরকমই প্রায় ২৫ বিলিয়ন মাইল দূরে ছুটে চলছে - পৃথিবীতে তথ্য পাঠাচ্ছে। 
যারা মানুষের চাঁদে যাওয়া বিশ্বাস করার সামর্থ রাখে না - তারা ২৫ বিলিয়ন মাইল কতটা দূরত্বে বা ২৫ বিলিয়ন লিখতে কতগুলো শূন্যের প্রয়োজন হয় - সেটাও জানে না। 
ম্যারিনার ৪ নামে একটি মঙ্গল মিশন নাসা প্রথম পরিচালনা করেছিল ১৯৬৪ সালে। চাঁদের যাবারও আগে। 
নাসা ৭৪৬ মিলিয়ন মাইল দূরে শনি গ্রহের উপগ্রহ (চাঁদ) টাইটানেও একটি রোভার নামিয়েছিলো। শনির চাঁদ টাইটান মঙ্গল থেকেও কমপক্ষে ২০ গুন দূরে অবস্থিত। ২০০৫ সালে হাইজেন্স নামের একটি স্পেস প্রোভ শনির উপগ্রহ টাইটানে ল্যান্ড করে। টাইটান গ্রহে নদী রয়েছে, সমুদ্র রয়েছে, সেখানেও পৃথিবীর মতোই বৃস্টি হয়। তবে পৃথিবীতে যেমন নদী, সমুদ্র বা বৃস্টি সবই হয় পানির কিন্তু সেখানে ওসব লিকুইড মিথেনের। 

বিজ্ঞানীরা আগামী ৭ বছরের মধ্যে সবচে ব্যয়বহুল আরও একটি স্পেস প্রোভ শনির চাঁদ টাইটানে পাঠাতে যাচ্ছে - যা হয়তো খুলে দিতে পারে নতুন দিগন্ত। 
হাইজেন্স নামের যে প্রোভটি নাসা শনির উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিল তা উৎক্ষেপন করা হয়েছিলো ১৯৯৭ সালে এবং টাইটানে পৌছতে তার সময় লেগেছিলো প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর। 
যারা চাঁদে যাওয়ার কথা বিশ্বাস করতে পারে না - তার এসব কি বিশ্বাস করে?

এই যে বিগত শতাব্দীর হ্যাবল টেলিস্কোপ বা সম্প্রতিক সময়ের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ অথবা পৃথিবী থেকে ৪০০ মাইল দূরত্বে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি প্রতিদিন ১৬ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করে চলছে এবং সেখানে বছরের পর বছর ধরে মানুষ বসবাস করে চলছে - সেসব কি ওরা বিশ্বাস করে? 
হ্যাবল টেলিস্কোপটি অথবা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি বানাতে কত বছর সময় লেগেছে এবং তা কোথায় অবস্থান করে মহাশূন্যের ছবি পাঠাচ্ছে ওরা কি এসব কল্পনা করতে পারে?
সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষদের জ্ঞানের পরিধির জন্য নাসার এসব কার্যক্রম। 

সাধারণ বুদ্ধিমানরা চায় নাসা মঙ্গল গ্রহ, শনির টাইটান উপগ্রহ, এস্টরয়েড, কুইপার বেল্ট, অন্যান্য সোলার সিস্টেমস, গ্যালাস্কি, হ্যাবল-জেমস স্পেস টেলিস্কোপ, আইএসএস এসব গবেষনা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ঊনমানুষদের খুশী করতে প্রতি বছর ২ জন ৪ জন করে মানুষকে চাঁদে পাঠাবে। তাহলেই বিশ্বাস করবে যে চাঁদে যাওয়া মিথ্যা নয়। 
আসলে ওরা তো এখনও পরে আছে সেই ‘চাঁদের বুড়ি’কে নিয়ে। 
ও বুড়ি চড়কা কাটছে - তারা সন্ধ্যায় তা পৃথিবীতে বসে খালি চোখে উপভোগ করে। 
খালি চোখে চাঁদের বুড়ির চড়কা কাটা দেখা যাদের বুদ্ধির দৌড় তারা এসব কিভাবে বিশ্বাস করবে? 
সবার সবকিছু বিশ্বাস করার বা জানার যোগ্যতা থাকে না। 
 

মন্তব্য করুন: