• NEWS PORTAL

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আটকে রাখা যাচ্ছে না ইমরান খানকে, সেনাবাহিনী কি মানবে? (ভিডিও)

হাফিজুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৪:১১, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ১৪:৪৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফন্ট সাইজ

পাকিস্তানের রাজনীতিতে পাল্টে যাচ্ছে পাশার ছক। নিরাপত্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন। জেলে থেকেও জনগনের রায়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন ইমরান খানের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। 

মামলার গ্যাড়াকলে গত ১০ মাস ধরে  কারাগারে ইমরান খান। দল হারিয়েছে বহুদিনের নির্বাচনী প্রতীক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছে পিটিআই প্রার্থীরা। চলমান সংকটে ধারণা করা হচ্ছিলো, সহজেই সরকার গঠন করবে সেনাবাহিনীর নেকনজরে থাকা নওয়াজ শরিফের দল। কিন্তু, নির্বাচনী ফলাফল বলছে ভিন্ন কথা।

শনিবার সকাল পর্যন্ত পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ সমর্থিত প্রার্থীসহ, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৯৯টি আসন। নওয়াজ পেয়েছেন ৭১টি। আর বিলাওয়াল ভুট্টোর দখলে ৫৩টি আসন। কোনো দলের একক সরকার গঠনের জন্য পেতে হবে অন্তত ১৩৪টি আসন। 

২০১৮ সালে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে পাকিস্তান সংসদে ক্ষমতায় আসে পিটিআই। সামরিক বাহিনীর সাথে দ্বন্দ ও পরে তাদের অপ্রিয় পাত্র হয়ে চার বছরের মাথায় পতন ঘটে ইমরান সমর্থিত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের। রাজনীতির মাঠে দলটি হয়ে পড়ে কোণঠাসা। 

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সামাজিক মাধ্যম এক্সে, ইমরান খানের হ্যান্ডলে  প্রচার করা হয় তার একটি বক্তব্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ভাষণে তিনি জানান, জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নজিরবিহীন এই সমর্থনের কারণে জাতীয় নির্বাচনে বিজয় হয়েছে তার দল।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ইমরান খান বলেন, প্রিয় পাকিস্তানবাসী, আপনারা ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। আমি আপনাদের সবাইকে নির্বাচন জেতার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের উপর আমার পুরো ভরসা ছিলো।  আপনারা আমার ভরসার সম্মান  রেখেছেন। আপনাদের এই সমর্থন সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। নওয়ার শরীফ ৩০ আসন পিছিয়ে থেকেও জয়ী বলে ঘোষনা দিয়েছে। কেনো পাকিস্তানি তাকে মানবে না। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও তার বোকামী নিয়ে লিখছে। আপনারা ইতিহাস রচনা করেছেন। আপনাদের নিয়ে আমি গর্ব করি।

চলমান নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে পরবর্তী সরকার। নির্বাচনে কারা বিজয়ী হবে, সেই বিষয়ে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়বে সেনাবাহিনী। তবে, যেভাবেই সরকার গঠন হোক, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে তাদের। সামনের দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে পাড়ি দিতে হবে আরও কঠিন পথ। 

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঝামেলার মধ্যেই লাহোরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন নওয়াজ শরিফ। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পিএমএল-এন এককভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে সামনে এসেছে, এমন দাবি করেন তিনি।

এদিকে মুসলিম লীগ-এন এর নেতা নওয়াজ শরিফ চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, মুসলিম লীগ-এন আজ দেশের বৃহত্তম একক দল। পাকিস্তানকে চলমান সংকটের ঘূর্ণিঝড় থেকে বের করে আনাই আমাদের কর্তব্য। যারা জনগনের সমর্থনে জিতেছেন, ম্যান্ডেট পেয়েছেন, স্বতন্ত্র হোক বা দলীয় প্রার্থী, আমরা তাকে সম্মান করি। আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে তাদের শ্রদ্ধা করি। যারা নির্বাচিত হয়েছি, আমরা সবাই মিলে বসবো। সরকার গঠন করবো। পাকিস্তানকে সংকট থেকে বের করে আনা জরুরী।

ভোট গ্রহণের দিন পাকিস্তানজুড়ে বন্ধ রাখা হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা। নির্বাচনের ফল প্রকাশ নিয়েও তৈরি হয় বিতর্ক। ভোটে কারচুপির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ আনে পিটিআইসহ বড় কয়েকটি দল।

পাকিস্তানের নির্বাচন ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র দায়ী। এমনটাই মনে করেন অনেকে। ভুল পদক্ষেপ, সেনাবাহিনীর নাক গলানোর মতো নানা কারণ আরও সংকটের দিকে নিয়ে গেছে দেশটির রাজনৈতিক অবস্থা। 

অর্থনৈতিক কাঠামোগত সমস্যায় দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। নআছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আর সহিংসতা। নির্বাচনে ইমরানের পক্ষে জনরায় প্রমাণ করে, সেনাবাহিনীর হাতেই হয়তো সবকিছু না। চতুর্মুখী জটিলতায় প্রশ্ন থেকেই গেলো, পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটের শেষ কোথায়।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: