• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২ | ৭ মাঘ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

ওমিক্রনঃ বিশ্বকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান ডব্লিউএইচও’র

প্রকাশিত: ২১:০৯, ২৯ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ২৩:১২, ২৯ নভেম্বর ২০২১

ফন্ট সাইজ
ওমিক্রনঃ বিশ্বকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান ডব্লিউএইচও’র

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগের মধ্যেই ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা করতে বিশেষ অধিবেশন শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার এই অধিবেশনটি শুরু হয়।  

ডব্লিউএইচও সাধারণত প্রতি মে মাসে অধিবেশনে বসে। ১৯৪৮ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর আলজাজিরা’র। সংস্থার ১৯৪টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই অধিবেশনে ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলার বিষয়ে নতুন আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যাপারে আলোচনা করবেন। 

বিশ্বে মহামারি মোকাবিলায় ‘মহামারি চুক্তি’ বা ‘আইনি বাধ্যবাধকতার নির্দেশিকা’র একটি খসড়া রেজ্যুলেশন রিভিউ পর্যায়ে গিয়ে এখন সাময়িকভাবে স্থগিত আছে। খসড়া প্রণেতারা বলছেন, যখন একটি মহামারি আসবে তখন এই চুক্তির ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।    

সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনেভায় ডব্লিউএইচও’র সদর দফতর থেকে সতর্কতাবিষয়ক এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, মূল করোনাভাইরাস ও তার অন্যান্য রূপান্তরিত ধরনসমূহের তুলনায় ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনের সংখ্যা অনেক বেশি। সংস্থার আশঙ্কা, এটি মহামারির পুরো চিত্র আরও বিপর্যয়কর করে তুলতে পারে। এতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ‘খুব উচ্চ’ ঝুঁকি রয়েছে এবং কিছু অঞ্চলে এটি ‘মারাত্মক পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডব্লিউএইচও।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটি এর ১৯৪ সদস্য দেশকে সম্ভাব্য সংক্রমণের ঢেউ ঠেকাতে বিশেষ গ্রুপের লোকদের মধ্যে টিকাদানের হার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ঠিকঠাক রয়েছে কি না সেটিও নিশ্চিত করতে বলেছে তারা।

ডব্লিউএইচও বলেছে, ওমিক্রনে অভূতপূর্ব স্পাইক মিউটেশন হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এগুলো মহামারির গতিপথ বদলে দিতে পারে।

করোনার নতুন এই ধরনে বৈশ্বিক ঝুঁকি অনেক বেশি বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অবশ্য আজ পর্যন্ত এতে কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধে প্রচলিত টিকাগুলো কার্যকর কি না তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ওমিক্রন সম্পর্কে যা জানিয়েছে ডব্লিউএইচওঃ
১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আগে যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, এরকম ব্যক্তিরা আবারও খুব সহজেই আক্রান্ত হতে পারে ওমিক্রনে।

২. এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্যের দেহে কোনো ভাইরাস যতো সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই ভাইরাস ততো বেশি সংক্রামক। করোনাভাইরাসের ডেল্টা এবং অন্য রূপের তুলনায় ওমিক্রন বেশি সংক্রামক কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এই রূপকে ধরতে সক্ষম বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

৩. কোভিডের বিভিন্ন টিকার উপর এই ভাইরাসের প্রভাব কতোটা, তা জানার জন্য কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

৪. করোনার নতুন রূপ ওমিক্রন আরও জটিল রোগ ঘটাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। করোনার অন্য রূপে আক্রান্ত হলে যেসব উপসর্গ দেখা যায়, তার থেকে আলাদা কোনো উপসর্গ ওমিক্রন ডেকে আনছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

৫. প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য জানাচ্ছে, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেড়েছে। কেবলমাত্র ওমিক্রনের জন্য এই বৃদ্ধি কি-না, তা বলার পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই বলে মত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার।

তবে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগীদের শরীরে তেমন উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি। তিনিই রোগীদের মধ্যে করোনার নতুন এ ধরনটি প্রথম সন্দেহ করেন এবং পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হন।

তিনি বলেন, তাঁর কাছে চিকিৎসা নেওয়া সন্দেহভাজন কয়েক ডজন ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর শরীরে কেবলমাত্র মৃদু উপসর্গ দেখেছেন তিনি। রোগীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াই তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ডা. কোয়েৎজি ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, গত ১০ দিনে তিনি অন্তত ৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন, যারা করোনা পজিটিভ ছিলেন। তবে তাদের শরীরে তিনি কিছু ‘অপরিচিত উপসর্গ’ দেখতে পেয়েছেন।

এএফপিকে এই চিকিৎসক বলেন, রোগীদের একটি সাধারণ উপসর্গ চরম ক্লান্তি। এবারে রোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ, যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে। তাদের অর্ধেকই করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ নেওয়া ছিলেন। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে ওমিক্রন খুবই অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। তাদের সতর্ক হওয়া জরুরি।

অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি বলেছেন, তাদের পেশীতে মৃদু ব্যথা, গলায় খুসখুস ভাব এবং শুকনো কাশি ছিলো। মাত্র অল্প কয়েকজনের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বেশি ছিলো।

ওমিক্রনের এই মৃদু উপসর্গগুলো করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গের তুলনায় ভিন্ন। করোনাভাইরাসের অন্যান্য কিছু ধরনে ওমিক্রনের চেয়েও জটিল উপসর্গ দেখা যায়।

বিভি/এসডি

মন্তব্য করুন: