• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

রাশিয়া গ্যাস সংযোগ কেটে দেওয়ায় বিপাকে জার্মানি

প্রকাশিত: ২২:৫১, ২৩ জুন ২০২২

আপডেট: ১০:৫৩, ২৪ জুন ২০২২

ফন্ট সাইজ
রাশিয়া গ্যাস সংযোগ কেটে দেওয়ায় বিপাকে জার্মানি

ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনার ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। একযোগে নিষেধাজ্ঞার জবাবে নিজেদের ‘গ্যাসকে’ শক্তি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। আর তাতেই বিপাকে পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ।

ইতিমধ্যে গ্যাস নিয়ে বিপাকে পড়েছে জার্মানি। কেননা জার্মানির সঙ্গে গ্যাস সংযোগ ছিন্ন করেছে রাশিয়া। এখন দেশটিতে চরম গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ঘাটতি মোকাবেলার জন্য দেশটিতে যে জরুরিকালীন গ্যাস ‘সতর্ক সঙ্কেত’ জারি করেছে। 

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে যে অচলাবস্থা চলছে তার সবশেষ পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে সঙ্কট।

জার্মানির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক বলেছেন, জার্মানিকে এখন গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে।
ইইউর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব দিতে রাশিয়া গ্যাসকে ‘অস্ত্র’ হিসাবে ব্যবহার করছে। আমাদের চোখ বন্ধ করে থাকার মানে হয় না। গ্যাস সরবরাহ কেটে দেওয়াটা পরিষ্কার আমাদের ওপরপুতিনের হামলা।

তিনি আরও বলেন, স্পষ্টতই পুতিনের কৌশল হল একটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা, মূল্য বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দেওয়া এবং সমাজে একটা বিভক্তি সৃষ্টি করা। আর আমরা এর বিরুদ্ধেই লড়াই করছি। 

তবে তিনি বলেছেন, জার্মানির শিল্পখাতে গ্যাস রেশন করার প্রয়োজন দেখা দেবে না। অবশ্যই এই সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না।

জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বা গ্যাসের চাহিদা খুব বেড়ে গেলে তা মোকাবেলার জন্য দেশটিতে তিন স্তরের একটি আপদকালীন পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মানি এখন সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তর কার্যকর করেছে। গ্যাস মজুদ করার কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস ভর্তি করার প্রচেষ্টার জন্য জার্মান সরকার এখন ১৫ বিলিয়ন ইউরো (১৩ বিলিয়ন পাউন্ড) ঋণ দেবে।

জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা বলছে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন দিয়ে এখন স্বাভাবিক মাত্রার মাত্র ৪০ শতাংশ গ্যাস আসছে এবং এই মাত্রা অব্যাহত থাকলে আগামি শীতে প্রয়োজনীয় মজুদের ৯০ শতাংশ নিশ্চিত করতে জার্মানিকে বেগ পেতে হবে। সরবরাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিলে এবং বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট গ্যাস না থাকলে, জরুরি পরিকল্পনার তৃতীয় স্তরে রাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এর অর্থ হবে সরবরাহ রেশন করে দেওয়া। তৃতীয় স্তরে, প্রথমে শিল্প খাতে সরবরাহ সীমিত করা হবে। কিন্তু গৃহস্থালি ও হাসপাতালের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।

রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেবার প্রভাব এখন পড়েছে ইউরোপের বারোটি দেশে। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন ইইউ-র পরিবেশ নীতি বিষয়ক প্রধান ফ্র্যান্স টিমারম্যান্স। রাশিয়া গত সপ্তাহে যন্ত্রপাতির সমস্যা হচ্ছে এই যুক্তি দিয়ে নর্ড স্ট্রিম-১ পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়, যার প্রভাব পড়েছে জার্মানিতে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: