• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

চীন-তাইওয়ান উত্তেজনার নেপথ্যে ‘সাংহাই ইশতেহার’

প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ৫ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
চীন-তাইওয়ান উত্তেজনার নেপথ্যে ‘সাংহাই ইশতেহার’

অর্থনীতিতে শক্তিশালী চীন-আমেরিকার সামরিক অচলাবস্থা দীর্ঘদিনের। তবে এই পরিস্থিতি আরও জটিলের পথে এগুচ্ছে সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে সফর করাকে কেন্দ্র করে।

এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষক ডেভিড পি গোল্ডম্যানের মতে, পেলোসির এই সফর ১৯৭২ সালের ‘সাংহাই ইশতেহার’-এর লঙ্ঘন। এর মধ্য দিয়ে বেইজিংয়ের টেনে দেওয়া ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করল বাইডেন প্রশাসন। ফলে পেলোসির এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নতুন একটি পর্বে ঢুকেছে। 

চীনা বিপ্লবের পর ১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের (পিআরসি) সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিক পার্টির প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের মধ্য দিয়ে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। স্বাভাবিক হয় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। দুই দেশ সাংহাই ইশতেহারে সই করে।

ইশতেহারে চীন ঘোষণা করে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ‘তাইওয়ান প্রশ্ন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাইওয়ান চীনের একটি প্রদেশ। তাইওয়ানকে স্বাধীন করা চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এতে কারও হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না চীন। চীনের এ অবস্থান মেনে নিয়েই ইশতেহারে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৭২ সালে নিক্সনের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন এমন এক সদস্য এশিয়া টাইমসকে বলেছেন, পেলোসির সফর সাংহাই ইশতেহারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সাংবিধানিক মর্যাদার কারণে তাঁর এই সফর চীনের জন্য অত্যন্ত আপত্তিকর। কারণ, প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নিম্নকক্ষের স্পিকারই তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাইওয়ানে তাঁদের সফর পরোক্ষভাবে দ্বীপটির স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষক গোল্ডম্যানের ধারণা, সম্ভবত এসব কিছু মাথায় রেখেই গত বৃহস্পতিবার ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে পেলোসির সফর নিয়ে সতর্ক করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ‘আগুন নিয়ে না খেলতে, খেললে পুড়তে হবে’ বলে বাইডেনকে হুঁশিয়ারও করেছিলেন শি জিনপিং।

তবে বাইডেন প্রশাসন বলছে, পেলোসির তাইওয়ান সফর একান্ত ব্যক্তিগত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক গোল্ডম্যানের প্রশ্ন, তাহলে পেলোসিকে সামরিক বিমান দেওয়া হলো কেন? বাইডেন চাইলে কি পেলোসিকে তাইওয়ান সফর থেকে নিবৃত্ত করতে পারতেন না? বাইডেন প্রশাসনের মনে কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। ভুলে বা পরিকল্পিত, যেভাবেই তারা এটা করে থাকুক, দুই দেশের সংকট অন্যতম এক গভীরতায় চলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

বিভি/এসএইচ/এজেড

মন্তব্য করুন: