• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২ | ১৯ আষাঢ় ১৪২৯

চট্টগ্রামে কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন ডা. মুরাদ?

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ৭ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ২০:৫০, ৭ ডিসেম্বর ২০২১

ফন্ট সাইজ
চট্টগ্রামে কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন ডা. মুরাদ?

ফনোরেকর্ড ভাইরাল হওয়ার পর হঠাৎ গা ঢাকা দিয়েছেন সদ্য পদত্যাগী তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। গতকাল (৬ ডিসেম্বর) দিনভর গণমাধ্যমকর্মীরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সাক্ষাৎ পাননি তাঁর। 

দিনভর নাটকীয়তার পর সন্ধ্যায় জানা গেলো, মুরাদ হাসান ঢাকায় নয়, চট্টগ্রামে কোনো এক নেতার বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এমন তথ্য গণমাধ্যমে আসার কিছুক্ষণ পর সংবাদ ছাপা হয়, মুরাদ হাসান ওই নেতার বাসা থেকে চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউতে রয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকেও নাকি তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে কোথায় রয়েছেন তা কেউ জানেন না।

চট্টগ্রামের একটি সূত্র জানায়, মুরাদ হাসান ৬ ডিসেম্বর দুপুরে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসায় যান। সেখানে নিরাপদ বোধ না করায় তিনি চট্টগ্রামের হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে ওঠেন। তবে সকালের পর সেই হোটেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ধানমন্ডিতে বাসা রেখে হোটেল সোনারগাঁওয়ে কী করতেন মুরাদ?
সোনারগাঁওয়ের স্যুইটরুমে কী করতেন মুরাদ, খতিয়ে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

এই বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাডিসন ব্লু’র জনসংযোগ কর্মকর্তা রাফাত সালমান গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল দুপুরে উনার জন্য একটা রুম বুক করা হয়। তিনি দুপুরে কিছু সময়ের জন্য হোটেলে ছিলেন। এরপর বিকালে বের হন। সন্ধ্যায় আবারও হোটেলে এসে মধ্যরাতে হোটেল ত্যাগ করেন। 

চট্টগ্রামে কোন্ নেতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন মুরাদ হাসান, সেটি এখনও রহস্য হয়ে আছে। তিনি যখন চট্টগ্রামে যান, তাঁর সংগে কোনো প্রটৌকল ছিলো না। এমনকি কোনো নেতা-কর্মীও দেখা করতে আসেননি। ফলে মুরাদ হাসান চট্টগ্রামে কার বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই প্রশ্ন এখন জনমনে।

এদিকে, তাঁর ধানমন্ডির ১৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত বাসার নিরাপত্তা প্রহরীরাও জানেন না মুরাদ হাসান কোথায় রয়েছেন। তাঁরা জানান, গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি মুরাদ হাসান। 

প্রসংগত, একটি রাজনৈতিক পরিবারের একজন নারী সদস্যকে নিয়ে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য এবং ফোনোরকর্ড ফাঁস হওয়ার পর সব মহলের সমালোচনার মুখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রলায়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন মুরাদ হাসান।

ফাঁস হওয়া ফোনোরেকর্ডে নায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহি’র সংগে মুরাদ হাসানের আলাপচারিতা ভাইরাল হতেই পায়ের তলার মাটি সরে যায়। কুরুচিপূর্ণ এবং অনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ এসব কথা শোনার পর তীব্র সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। 

৬ ডিসেম্বর রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বরাতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুরাদ হাসানকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর ৭ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ডা. মুরাদ হাসান।

 

বিভি/এসএইচ/রিসি

মন্তব্য করুন: