• NEWS PORTAL

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

র‌্যাম্প মডেল যখন পোষাপাখি

প্রকাশিত: ২২:৩০, ২৮ অক্টোবর ২০২২

ফন্ট সাইজ
র‌্যাম্প মডেল যখন পোষাপাখি

চলছে পাখির প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশ নিয়েছে রঙ-বেরঙের পাখি। র্যা ম্প মডেলের মতো নানান কসরতে তুলে ধরছে নিজের সৌন্দর্য। বিচারকদের বিবেচনায় সবচেয়ে সুন্দর পাখির জন্য প্রস্তুত আছে বিজয়ীর জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারও।  প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ২ শতাধিক পাখি, রঙিন মাছ ও খরগোশ অংশ নিয়েছে।

খাঁচায় পোষা বাজেরিগার পাখি, একুরিয়ামের মাছ ও বিদেশী খরগোশ নিয়ে এই প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন বাজেরিগার সোসাইটি অব বাংলাদেশের। শুক্রবার রাজধানীর কলেজ গেটের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে দিনভর চলে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন। যা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসেন পাখিপ্রেমীরা। 

আয়োজকরা জানান, শিশু কিশেরদের মোবাইল ও মাদকের নেশা থেকে দূরে রাখতে পোষা পাখি পালনে উৎসাহ দিতে এমন আয়োজন তাদের। একইসঙ্গে আইনে নিষিদ্ধ দেশীয় বন্যপাখি শিকার ও লালন-পালনের বিকল্প হিসেবে বাজেরিগার পালনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াও তাদের লক্ষ্য।

আয়োজনের বিষয়ে বাজেরিগার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক সুলতান বাবু বলেন, আমাদের গ্রুপ জন্মলগ্ন হতেই উদিয়মান তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন  অসৎসঙ্গ, অসৎকর্ম ও অপসংস্কৃতি হতে দূরে রাখতে খাঁচার পাখি পালনে উৎসাহিত করে আসছে। এই খাঁচার পাখিপালন আমাদের যুবসমাজের জন্য সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। এছাড়া দেশের বাইরেও খাঁচার পাখি রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতেও অর্থবহ অবদান রাখা সম্ভব। বিশেষভাবে উল্লেখ যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও কবুতর, পাখি পালনে করে স্বাবলম্বী হতে উৎসাহ দিয়েছেন।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাখির নানান আচরণ, সৌন্দর্য দেখে বিজয়ী বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা সারা বিশ্বে হয়। বাংলাদেশে ৯ম বারের মতো আয়োজন করলাম। এটার মাধ্যমে আমরা মেসেজ দিতে চাচ্ছি তরুণরা যেন মোবাইল বা মাদকে ডুবে না থেকে পাখিদের সঙ্গে সময় কাটায়। এছাড়া দেশের প্রকৃতিতে ভূমিকা রাখা ও আইনে নিষিদ্ধ দেশীয় বন্য পাখি যেন কেউ শিকার না করে সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করাও আমাদের আয়োজনের লক্ষ্য। 

তিনি আরও বলেন, আমরা যে পাখিগুলো নিয়ে কাজ করছি এরা প্রাকৃতিক পাখি নয়। এরা পোষাপাখি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এই পাখিগুলোর জন্মও খাঁচায় মৃত্যুও খাঁচায়। এই পাখিগুলো প্রকৃতিতে ছাড়লেও টিকতে পারবে না। আমরা চাই তরুণরা এইসব পোষাপ্রাণী নিয়ে সময় কাটিয়ে অবক্ষয় থেকে দূরে থাকুক।

এর আগে প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের 'প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর' এর মহা পরিচালক ডাঃ মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বনামধন্য ক্যাটেল ফার্ম 'সাদিক এগ্রো ' এর  স্বত্ত্বাধিকারী ও 'বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট সম্মানিত অতিথিবৃন্দের পাশাপাশি নানা বয়সের পশুপাখিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/কেএস

মন্তব্য করুন: