• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২ | ৭ মাঘ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

একসংগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা

আর্ল মিলার

প্রকাশিত: ১৫:৪৪, ১০ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ২০:০৮, ১০ জানুয়ারি ২০২২

ফন্ট সাইজ
একসংগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা

ছবিঃ সেন্টমার্টিন দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক।

বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েব পেইজে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বৈশ্বিক জলবায়ু নিয়ে একটি লিখা প্রকাশ করেছেন যা বাংলাভিশন ডিজিটালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। 

৫ জানুয়ারি ২০২২ – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু সংকটকে যথাযথভাবেই অভিহিত করেছেন, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসংগে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন অঙ্গীকার করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে এবং নিঃসরণ কমাতে ও দেশে-বিদেশে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে সাহসী পদক্ষেপ নেবে। গত নভেম্বর মাসে গ্লাসগোতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৬তম কনফারেন্স অফ দ্য পার্টিস (COP26) চলাকালে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে নাগালের মধ্যে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা নির্ধারণ করেছে। আমরা বিশ্বব্যাপী আমাদের অংশীদারদের সংগে নিয়ে “গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি” ও প্যারিস চুক্তিতে বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণে সহায়তা করেছি।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বদানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রশমন, অভিযোজন ও অর্থায়ন-নিবিষ্ট উদ্ভাবনী জলবায়ু-বান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করে। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড লিডারস সামিটে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেন যা বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব সৃষ্টি করবে।

প্রথমত, অভিযোজন ও ঝুঁকি-সহিষ্ণুতা বিষয়ে প্রেসিডেন্টের জরুরি পরিকল্পনা (PREPARE) হলো বিশ্বব্যাপী নাজুক পরিস্থিতিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশ ও জনপদগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানিয়ে নেওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগগুলোতে সহায়তার লক্ষ্যে গৃহীত একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি উদ্যোগ।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষি উদ্ভাবন মিশন (AIM4C) হলো যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি যৌথ উদ্যোগ যার আওতায় জলবায়ু-বান্ধব কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়বে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই AIM4C-তে স্বাক্ষর করেছে এবং জলবায়ু কার্যক্রমের সমর্থনে কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তৃতীয়টি হ’ল গুরুত্বপূর্ণ কার্বন শোষক হিসেবে বিশ্বব্যাপী বন সংরক্ষণের পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেওয়া এ ধরনের প্রথম পরিকল্পনার আওতায় ব্যাপক পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী বৃষ্টিপাত-সমৃদ্ধ বিভিন্ন বনাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তার রূপরেখা প্রণীত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট যখন গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কপ২৬-এ এসব উদ্যোগের ঘোষণা দিচ্ছিলেন, আমি তখন কক্সবাজারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার-সমর্থিত জলবায়ু সহিষ্ণুতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করছিলাম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রত্যক্ষ করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ের অভিযোজন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে গিয়েছিলাম। সেন্ট মার্টিনে অবস্থানকালে আমি উপকূলে ব্যাপক ভূমিক্ষয় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্যচাষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব, প্রবাল-প্রাচীর ক্ষয় এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার ও উপকূল সুরক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত বিভিন্ন প্রচেষ্টা সম্পর্কে জেনেছি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সংগে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায় জলবায়ু সহিষ্ণুতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, ইউএসএআইডি’র অনুদানে সংস্কারকৃত ১৪০টিরও বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এগুলোর মধ্যে একটি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অবস্থিত যেখানে ক্রমাগত ও তীব্রতর ঝড়ের ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোতে এলাকার বাসিন্দারা সুরক্ষিত থাকতে পারবে।

২০০১ সাল থেকে ইউএসএআইডি বাংলাদেশে ৭০০টিরও বেশি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে যেগুলো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউএসএআইডি’র সহায়তার মাধ্যমে বন্যার পূর্বাভাষ ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশীরা জীবন বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রের যাওয়ার জন্য আগাম সময় পাচ্ছে। আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জেলাগুলোতে জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও উন্নত হওয়ার ফলে ঝুঁকি-সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জটিল এই সমস্যাটিকে আরো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে এবং জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির দক্ষতা জোরদারের মাধ্যমে নীতি-প্রণেতা ও সচেতন জনগণকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদেরকে সম্পৃক্ত করছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিক্ষয় রোধ ও উপকূলীয় জনপদ সুরক্ষায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং একই ধরনের জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকারী বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বোচ্চ হুমকির মুখে থাকা ৫০টিরও বেশি দেশের সমন্বয়ে গঠিত জোট, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম’র চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী’র নেতৃত্ব বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রশংসা অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি গত এপ্রিলে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সংগে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নাজুক দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু বিষয়ক বৈশ্বিক আলোচনায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো তুলে ধরেছেন।

কপ২৬-এ ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এক অপরিহার্য অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। আমরা অসাধারণ দু’টি দেশ একত্রে দৃঢ়-সংকল্প ও ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে নতুন বছরে এমনভাবে এগিয়ে চলেছি যে, আমরা পারি এবং যে গ্রহের সৌভাগ্যবান অধিবাসী আমরা, সেই নাজুক গ্রহটিকে অন্যদের সংগে ভাগ করে নেওয়ার দায়বদ্ধতা পালনে আমরা একে সুরক্ষিত রাখবো।

বিভি/রিসি 

মন্তব্য করুন: