• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

নির্বাচনে ইসলামী দল পাসের বিস্ময়কর উত্থানে মালয়েশিয়ায় কি হতে পারে?

প্রকাশিত: ২২:০৯, ২৪ নভেম্বর ২০২২

আপডেট: ২২:৪১, ২৪ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
নির্বাচনে ইসলামী দল পাসের বিস্ময়কর উত্থানে মালয়েশিয়ায় কি হতে পারে?

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের কারণে গত পাঁচ বছরে মালয়েশিয়ায় তিনটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তাই সাম্প্রতিক নির্বাচনে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ছিলো দেশটির দিকে। এই নির্বাচনে কোন জোট বা দল সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয়ী হয়নি। তবে জোটগতভাবে সর্বোচ্চ ৮১ আসন পেয়েছে আনোয়ার ইব্রাহিমের পাকাতান হারাপান। আর দলগতভাবে সর্বোচ্চ ৪৯ আসন পেয়েছে ইসলামপন্থী দল পাস। 

মজার বিষয় হলো- এবার ওয়ারিসান ন্যাশনাল, বিএন ও উমনো রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ পরাজয়ের মুখে পড়েছে। অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিকের মতো ঝানু কূটনীতিক কিট সিয়াং, ড. মাহাথির মোহাম্মদ ও টেংকু রাজালেগকে প্রার্থী না হওয়ার এবং পরামর্শক হিসেবে থাকার অনুরোধ করা হয়েছিলো। মাহাথির মোহাম্মদ। দেশের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী লংকাবিতে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন, পাঁচজনের লড়াইয়ে চতুর্থ স্থান পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। তারা যদি সেটাই করতেন তাহলে নির্বাচনে পরাজয়ের এই অপমান এড়িয়ে যেতে পারতেন। ১৫তম এই সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল মালয়েশিয়ার জন্য ছোটখাটো বিপর্যয়ের মতো।

No description available.

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সফলতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহীম। কিন্তু মালয়েশিয়ার প্রধান ইসলামী দল ‘পাস’ মালয়েশিয়ার ইতিহাসে বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুরো দেশবাসীকে। বড় দলগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক কম আসন পেলেও পাস এককভাবে সবচেয়ে বেশি ৪৯টি আসন নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে। 

দেশটির বিশ্লেষকদের দাবি, ইসলামী দল ‘পাসের এই সাফল্য বিস্ময়কর। ইসলামী দলের এই সাফল্য মালয়েশিয়ায় নতুন এক মেরুকরণের জন্ম দেবে। তাদের এই বেশি আসন দখলে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের দল এবং তার মালয় জাতীয়তাবাদী দর্শন। 

২০২২ এর এই সাধারণ নির্বাচনের আগে, পাস মূলত উত্তরাঞ্চলীয় নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য যেমন তেরেঙ্গানু, কেলানতান, পারলিস এবং কেদাহতে শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। পাস এককভাবে পার্লামেন্টের মোট আসনের ১০ শতাংশের বেশি আসন পাবে কেউ ধারণায়ও আনতে পারেনি। এর আগে পাস সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২৩টি আসনে জয় পেয়েছিল। এবার ৪৯টি আসনে জিতে তারা সকল মহলকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্যমান ভোটারদের বড়ো একটি অংশ পাসের ওপর এবার আস্থা রেখেছে। পাশাপাশি, যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারাও এতদিন ধরে চলে আসা বড়ো দলগুলোর বাইরে নতুন কোনো দলের ওপর আস্থা রাখতে চেয়েছেন।

উদাহরণ হিসেবে পেনাং রাজ্যের কথা বলা যায়। এই প্রদেশে তুলনামূলক লিবারেল মানসিকতার প্রার্থীরাই জয় লাভ করেন। সেখানকার মূখ্যমন্ত্রীও চীনা নৃতাত্তিক গোষ্ঠীর। অথচ এই পেনাং প্রদেশেও পাস এবার প্রথমবারের মতো দুটো আসনে জয় পেয়েছে। তার চেয়েও বড়ো কথা, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহীম, তার স্ত্রী এবং তার মেয়ে নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ারের স্থায়ী বা পারিবারিক আসন বলতে যে সিটটিকে বোঝানো হয়, সেই পেরমাতাং পুয়াহ সিটেও পাস এর প্রার্থী জয়লাভ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাসের এই বিজয় ইংগিত দিচ্ছে, ইসলামী দলভিত্তিক রাজনীতি মালয়েশিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
পাসের বিরুদ্ধেও নানা মহলের তৎপরতা রয়েছে। পাসের মন্ত্রীদের বিষয়ে নানা আপত্তিও রয়েছে। পাস বিরোধীরা মনে করেন, পাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকারে মন্ত্রী হলে দেশটির বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেও আসতে পারে। তবে এবার পাস যে ধরনের রেজাল্ট করেছে তাতে পাসকে এড়িয়ে কিছু করা যেকোনো সরকারের জন্যই কঠিন হবে। 

অনেকেই মনে করছেন, পাস যদি সরকারে যোগ দেয় তাহলে তারা শিক্ষামন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্ত্রনালয় চাইতে পারে। কারণ পাস বরাবরই পরবর্তী প্রজন্মের মনন পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে পাসের প্রধান উস্তাদ আব্দুল হাদি আওয়াংকে নিয়ে কিছু তথ্য দিতেই হয়। আব্দুল হাদি আওয়াং এর জন্ম ১৯৪৭ সালে এবং বর্তমানে তার বয়স ৭৫ বছর। তিনি মারাং সংসদীয় আসনে ১৯৯০ সাল থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছেন এবং এবারও বিজয়ী হয়েছেন। মাহাথির পরবর্তী দুই প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসীন এবং ইসমাইল সাবরির আমলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের বাইরেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নানা ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব কাজ করছেন। 

লেখক: নিয়াজ মাখদুম, সাংবাদিক

বিভি/এনএম

মন্তব্য করুন: