• সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

সৈকতে বারবার ভেসে আসে জুতা পরা কাটা পা! 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৩৩, ১ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ১৯:৩৬, ১ অক্টোবর ২০২১

ফন্ট সাইজ
সৈকতে বারবার ভেসে আসে জুতা পরা কাটা পা! 

প্রতীকী ছবি

১৮৮৭ সাল। ভ্যাঙ্কুভারের সমুদ্রসৈকতে হেঁটে বেড়ানোর সময় ঝোপের মধ্যে মানুষের কাটা পা দেখতে পান এক নারী। বুটের ভিতর যেন সযত্নে রাখা ছিলো ওই পা। তারপর থেকে ওই জায়গার নাম হয়ে যায় লেগ ইন বুট স্কোয়ার। 

সেই ঘটনা তাৎক্ষণিক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও সেভাবে মানুষের মনে সাড়া ফেলেনি। ১৯১৪ সালে আবারও একই ঘটনা ঘটে। সমুদ্রসৈকতে আবারও মেলে বুটের ভিতর মানুষের কাটা পা। এভাবে একের পর এক জুতাসহ মানুষের কাটা পা উদ্ধার হয় ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সমুদ্রসৈকত থেকে। 

কোথা থেকে এসব কাটা পা ভেসে আসছে তা নিয়ে বেশ ভীতিকর অবস্থায় আছে কানাডার এই রাজ্যটির মানুষ। পরপর একইভাবে এতোগুলি মানুষের পা উদ্ধার স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শুধু ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২১টি এরকম জুতা পরা পা উদ্ধার হয়েছে। এই উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কাদের, কিছু ক্ষেত্রে তার খোঁজ মিললেও বেশিরভাগেরই কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। 

২০০৭ সালে ওয়াশিংটন থেকে ওই সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা এক কিশোরী একটি অ্যাডিডাসের জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। ভিতরে তখনও রয়ে গিয়েছে মানুষের কাটা পা। ওই পা কার তা জানা যায়নি। কিন্তু ২০০৩ সালে অ্যাডিডাস সংস্থা ভারতে ওই ধরনের জুতা প্রস্তুত করতো এবং শুধু ভারতেই ওই ধরনের জুতা পাওয়া যেতো। তাই ওই ব্যক্তি ভারতীয় বলেই মনে করা হয়েছিলো।

পরের সপ্তাহেই আরেকটি কাটা পা পাওয়া যায়, তবে পা দুটি একই ব্যক্তির ছিলো না।

২০০৮ সালে নাইকির জুতোর মধ্যে উদ্ধার হওয়া পা ছিলো ২১ বছরের এক কিশোরের। যিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। এই বছর এমন আরও চারটি পা পাওয়া যায়।

২০১৮ সালে পশ্চিম ভ্যাঙ্কুভারের সমুদ্রসৈকতে নাইকির জুতার মধ্যে ভেসে এসেছিলো একটি পা। নীল রঙের মোজাও পরা ছিলো তাতে। কার পা ছিলো তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার পর শুধু জানা গিয়েছিলো, ৫০ বছর বয়স ছিলো তাঁর।

২০১৯ সালে উদ্ধার হওয়া মানুষের কাটা পা’টি যেমন অ্যান্টোনিও নেইল নামে এক ব্যক্তির ছিলো যিনি ২০১৬ সাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

বছরের পর বছর ধরে রহস্যজনক ভাবে সমুদ্রসৈকতে জুতোর মধ্যে মানুষের কাটা পা ভেসে আসায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল মানুষের মনে। 

এই রহস্যের কোনও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রথমদিকে তদন্তকারীদের অনুমান ছিলো, এটা কোনও ধারাবাহিক খুনির কাজ। খুন করে পা কেটে হয়তো দেহাংশ সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতো সে। স্রোতের সংগে ভেসে যা পৌঁছে যেতো ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সমুদ্রসৈকতে।

পরবর্তীকালে বহু তদন্তের পর তদন্তকারীরা জানান, বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রে ঘটা দুর্ঘটনা কিংবা আত্মহত্যার কারণে মৃতদেহগুলি সমুদ্রেই পড়ে থাকে। সমুদ্রের নোনা জলে সেগুলিতে পচন ধরে যায়। কিন্তু পায়ের যে অংশ বুটের ভিতর ঢাকা থাকে সেগুলিতে নোনা জল সহজে ঢুকতে পারে না।

পানি ঢুকতে পারে না বলে বুটের ভিতরে সেই অংশটুকুতে সহজে পচন ধরে না। সে কারণেই হয়তো শুধুমাত্র বুটের মধ্যে সযত্নে রয়ে যাওয়া পায়ের অংশ ভেসে চলে আসে সমুদ্রসৈকতে। দেহের অন্য কোনও অংশ কখনও এভাবে উদ্ধার হয়নি।

এর পরও একটি প্রশ্ন রয়ে যায়। কেন ব্রিটিশ কলম্বিয়াতেই বারবার ভেসে আসে এগুলি? যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইনস্টিটিউট অব ওশান সায়েন্সেস-এর সমুদ্রবিদ রিচার্ড থম্পসন জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণভাবেই সমুদ্র স্রোতের কারণে হয়ে থাকে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

বিভি/এসডি

মন্তব্য করুন: