• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বিএনপি!

প্রকাশিত: ০৮:১০, ৫ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৪:০৪, ৮ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বিএনপি!

সরকারবিরোধী 'বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট' গড়তে এরই মধ্যে ছোট-বড় সমমনা ডান-বাম ও ইসলামী ২২টি দলের সঙ্গে প্রাথমিক সংলাপ শেষ করেছে বিএনপি। 'গণতন্ত্র মঞ্চে'র শরিক পাঁচটি দলের সঙ্গে সংলাপ করে দলটি। 

সংলাপ হয় ২০ দলীয় জোটের কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ পার্টি, মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), মওলানা আবদুর রকিবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ-ভাসানী, মুফতি মো. ওয়াক্কাসের নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খন্দকার লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), শেখ জুলফিকার রহমানের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ, কাজী আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), আবু তাহের চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক পার্টি, রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল, সাইফুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক লীগ, গরীবে নেওয়াজের নেতৃত্বাধীন পিপলস লীগ ও সৈয়দ এহসানুল হুদার নেতৃত্বাধীন জাতীয় দলের সঙ্গে।

তবে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে এখনও কোনো আলোচনার সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। এবিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে সংলাপের সিদ্ধান্ত না হলেও তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি না করে সরকারবিরোধী জোট ও যুগপৎ আন্দোলনে যাবে বিএনপি। আওয়ামী লীগে থাকা শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদের সঙ্গে সংলাপেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাবি আদায়ের পূর্ব শর্ত জাতীয় ঐক্য। এই দাবি আদায়ের আন্দোলন জোটগত হবে না যুগপৎ হবে সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো অভিন্ন কর্মসূচি ও চিন্তার ঐক্য থাকতে হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে সবাইকে একদফার আন্দোলনে আসতে হবেঅ

বিএনপি সূত্র দাবি করেছে, ২০ দলীয় জোটের বাইরে ধর্মভিত্তিক ইসলামী দলগুলো সরকারের চাপের মুখে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে সংলাপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর যে অংশ বেরিয়ে গেছে, তারাও আপাতত নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

জোটগত আন্দোলনের পর ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চায় সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলো। দলগুলোর চাওয়া ও নিজের লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে। নির্বাচনে জয়ী হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সম্পৃক্ত সব দলকে নিয়ে 'জাতীয় সরকার' গঠনের আশ্বাসও দিয়েছে বিএনপি।

প্রথম পর্বের সংলাপ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে শিগগির দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে যাবে বিএনপি। এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে একটি লিয়াজোঁ কমিটিও গঠন করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জোটের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, ২০ দলকে সাইডলাইনে রেখে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট করার কারণ কী ছিল? কাদের বা কার উদ্যোগে এটি হয়েছিল? এ ফলাফলের জন্য কে দায়ী? বিষয়গুলো জোটের শরিক হয়েও তাঁদের কাছে ধোঁয়াশা ছিল। আবারও নতুন উদ্যোগে ওই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে কিনা- তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি। 

বিভি/এনএম

মন্তব্য করুন: