• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

মির্জা ফখরুলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের

প্রকাশিত: ০১:৩৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
মির্জা ফখরুলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের

সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের কার্যনির্বাহী সদস্য সঙ্গীতা ইমাম বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুলের ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে তাকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম’ বক্তব্যে বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জোটের এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রতিবাদ জানিয়ে এ কথা বলেন সঙ্গীতা ইমাম।

এ সময় তিনিসহ জোটের নেতারা এমন বক্তব্যের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতারেরও দাবি তোলেন। সঙ্গীতা তার বক্তব্যে বলেন, ‘এ কাণ্ডে মির্জা ফখরুলের শুধু রাজনীতি নয়, এ দেশে থাকার অধিকারও নেই।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের মহাসচিব। তার বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করছে, পেছনে নিয়ে যেতে চাইছে। তার ওই বক্তব্য বিএনপির পাকিস্তানপ্রীতির প্রমাণ।’

এ সময় গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করতেন না। তিনি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার কথা জানতেন। পরোক্ষভাবে মদদও দিয়েছিলেন তাতে।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে জোটের সভাপতি বলেন, ‘তারা আজ এমন কিছু দলের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য গড়েছে, যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। এখন তারা নতুন নতুন কৌশল নিয়েছে রাজনীতিতে। কিন্তু তাদের রাজনীতির ধারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। তারা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র চায়। মির্জা ফখরুল মুখ ফসকে সেই সত্য কথাটি বলে দিয়েছেন।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ বলেন, ‘আজ ঘুমের ঘোরে হোক বা জাগরণে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কথা বলেছেন, তাতে পাকিস্তানের সেই শক্তি, যারা একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, তাদের কথাই উচ্চারিত হয়। এই শক্তি কখনো মন্দির ভাঙে, নারীর টিপ পরার স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, আবার কখনো নারীর পোশাক নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চায়।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনোই পাকিস্তানে পরিণত হবে না। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বাস্তবতার সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির তফাত অনেক। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়) ২ হাজার ৫০৩ ডলার, পাকিস্তানের ১ হাজার ৫৬২ ডলার। পাকিস্তানও বলছে, পাকিস্তান থেকে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। যাদের এই এগিয়ে যাওয়া ভালো লাগছে না, তারা পাকিস্তানে চলে যাক।’

বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর। মির্জা ফখরুলের যদি এতই খারাপ লাগে, তবে তিনি নির্লজ্জের মতো এখানে রয়ে গেছেন কেন? কেন পাকিস্তানে চলে যান না?’

বিভি/এনএ

মন্তব্য করুন: