• NEWS PORTAL

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গণপরিবহন: নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও প্রতিকার

তারানা তানজিনা মিতু

প্রকাশিত: ২০:৪২, ১৭ জানুয়ারি ২০২৪

ফন্ট সাইজ
গণপরিবহন: নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও প্রতিকার

গণপরিবহনে চালক, সহকারী ও অন্যান্য পুরুষ সহযাত্রীদের দ্বারা অসদাচরণ, কটূক্তি ও যৌন হয়রানির বিষয়ে নারীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন। কখনো উঠে আসে ভয়ানক পাশবিক নির্যাতনের খবরও। অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ আর বাজে ভাষায় নারীদের আক্রমণ তো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা! নারীদের সংরক্ষিত সিটসংখ্যা মোট সিটের ২৫ শতাংশের কম। ফলে গণপরিবহনে নারীদের সঙ্গে চরম বৈষম্য প্রতীয়মান হচ্ছে। গণপরিবহনে নিয়মিত চলাচল করেন চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এমন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তির কথা শুনে অনুলিখন করেছেন তারানা তানজিনা মিতু। 

যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না গণপরিবহন। নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। ফলে অব্যাহত রয়েছে ভোগান্তিও। যত দিন যাচ্ছে পরিবহনে চলাচল নারীদের জন্য অস্বস্তি বেড়ে যাচ্ছে। সহ যাত্রীদের সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠা, গায়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগা, হেলপাররা ওঠার সময় পিঠে হাত দেওয়ার চেষ্টা করা, বাসভর্তি মানুষ থাকলেও দাঁড়িয়ে যাওয়া। ক্লাস শেষ করে বাস পাওয়া খুব ঝামেলা। বাসে যাওয়ার সময় কোনো নারীর সঙ্গে বাজে কিছু হলে আশেপাশের যাত্রীরা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। সেভাবে কেউ এগিয়ে আসে না তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করবার জন্য। আশা করছি সাধারণ নারী যাত্রীদের কল্যাণে এবং এই ভোগান্তি লাঘব করতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

ফারিয়া আফরোজ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশানুযায়ী, নারীদের জন্য বরাদ্দ কেবল ৯টি আসন, যা চাহিদার তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই অল্পসংখ্যক আসনও অনেকাংশে দখল করে নেন পুরুষরা। এছাড়া নারীদের আসনে বিভিন্ন মালামাল উঠানোর ফলে সংরক্ষিত মহিলা আসনের উপযোগিতা নষ্ট হয়। এমনকি এ ঘটনা এখন প্রতিটি বাসে খুবই স্বাভাবিক যে, নারীদের সিটে পুরুষ বসে আছেন আর নারীরা সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এক্ষেত্রে বাসচালক বা হেলপারের ভূমিকা থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীবিরোধী। কার্যকারণস্বরূপ, অধিকাংশ নারী তাই চুপ থাকাটাকেই পছন্দ করেন। নারী যাত্রীদের সংরক্ষিত আসন বাড়ানো হোক অথবা আলাদা বাস চালু করা হোক। এ ছাড়া নারী যাত্রীদের যাত্রাপথে ভোগান্তি কমবে না। 

ঈশা কামাল, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 

দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য আমাকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। গণপরিবহনে নারীদের আসন সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় কম। তারপরও নারীদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে অনেক সময় পুরুষরা যাতায়াত করে এবং প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন কটু কথা শুনতে হয়। আর এসব অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কোনো বাসযাত্রী নারীর পক্ষে কখনো কথা বলে না। তাই কেউ কথা না বললেও নারীকে নিজের জন্য সবসময় লড়াই করে যেতে হবে। মূলত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে থাকে। এ ধরনের অপরাধের জন্য কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এখন সময় এসেছে আমাদের সমাজের সমৃদ্ধির জন্য আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করার।

শক্তি দে, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। 

গণপরিবহনে নারী শিক্ষার্থীদের অনেক ধরনের ভোগান্তি হয়ে থাকে। অনেক সময় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য গাড়ির পরিবেশটাই নিরাপদ থাকে না। যৌন হয়রানি, বাজে অঙ্গিভঙ্গি এসবের কারণে খুবই অসস্থিতে পড়েতে হয়। নারীদের যাতায়াতের এসব ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এর সঙ্গে নারী-পুরুষের সীট আলাদা করা উচিত। এতে করে নারীদের হয়রানি কমে আসবে।

মাইমুনাতুল নুসরাত, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

মূল লেখক : শিক্ষার্থী, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

(বাংলাভিশনের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলাভিশন নিবে না।)

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: