তারাবির নামাজ ৮ নাকি ২০ রাকাত?
রমজানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো তারাবির নামাজ । তবে প্রতি বছরই এই নামাজের রাকাত সংখ্যা ৮ নাকি ২০ তা নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন ও মতভেদ দেখা দেয়।
রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও তারাবি
ইসলামিক স্কলারদের মতে, রাসুল (সা.) তার জীবনের শেষ রমজানে মাত্র দুই বা তিন দিন জামাতে তারাবি আদায় করেছিলেন। বুখারি শরীফের হাদিস অনুযায়ী, তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে নিয়মিত জামাতে পড়লে এটি উম্মতের ওপর ফরজ হয়ে যেতে পারে। রাসুল (সা.) কত রাকাত পড়েছিলেন, তার চেয়ে বড় বিষয় ছিল তিনি প্রায় সারা রাত ধরে এই নামাজ দীর্ঘ কেরাতে আদায় করতেন।
৮ রাকাত ও ২০ রাকাতের প্রেক্ষাপট
৮ রাকাতের স্বপক্ষে: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত বুখারি শরীফের হাদিস (১৯০৯) অনুযায়ী, রাসুল (সা.) রমজান বা রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের (৮ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতর) বেশি পড়তেন না। যারা ৮ রাকাতের কথা বলেন, তারা এই হাদিসটিকে প্রধান দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন।
২০ রাকাতের স্বপক্ষে: হযরত উমর (রা.)-এর আমলে সাহাবীদের নিয়ে ২০ রাকাত তারাবি জামাতে পড়ার প্রচলন শুরু হয়। যেহেতু এটি সাহাবীদের উপস্থিতিতে হয়েছিল এবং কেউ প্রতিবাদ করেননি, তাই একে 'ইজমা' বা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিবাদের সমাধান: পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান
বিখ্যাত মুজতাহিদ ও ইমামগণ (যেমন ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম সুয়ুতি) এই দুই মতের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় করেছেন। তাদের মতে:
১. কেউ যদি রাসুল (সা.)-এর মতো দীর্ঘ কেরাত দিয়ে নামাজ পড়তে চান, তবে তার জন্য ৮ রাকাত যথেষ্ট।
২. আর সাধারণ মানুষের জন্য যদি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়, তবে কেরাত ছোট করে ২০ রাকাত আদায় করা উত্তম।
মূল কথা হলো, তারাবি একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ। রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিবাদে না জড়িয়ে একাগ্রতার সাথে দীর্ঘ সময় আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকাই হলো রমজানের মূল শিক্ষা।
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: