• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২ | ৭ মাঘ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

‘সেন্টমার্টিনে রাত্রি যাপন কোনোভাবেই অনুমোদনের অবকাশ রাখে না’

প্রকাশিত: ২১:২৪, ১৫ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ২১:৪১, ১৫ নভেম্বর ২০২১

ফন্ট সাইজ
‘সেন্টমার্টিনে রাত্রি যাপন কোনোভাবেই অনুমোদনের অবকাশ রাখে না’

সেন্টমার্টিন দেশের সবচেয়ে প্রকৃতিসমৃদ্ধ একটি স্থান। কিন্তু পর্যটনের নামে আমরা এই স্থানটি নষ্ট করে ফেলেছি। আমি পর্যটন সংশ্লিষ্ট দফতরে দায়িত্বশীল। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সেন্টমার্টিনকে রক্ষা করতে হলে এখানে দিনে কোনোভাবে ১২শ’ জনের বেশি পর্যটক গ্রহণ করা ঠিক হবে না। রাত্রি যাপনতো কোনোভাবেই অনুমোদন পাওয়ার অবকাশ রাখে না। এখনে উচিত পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসবে। তাও সেটা হবে নির্দিষ্ট সংখ্যক।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন করপোরেশন ভবনে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহমেদ একথা বলেন। যৌথভাবে‘ইকোট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট’বিষয়ে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) এবং সমূদ্র বিষয়ক সংরক্ষণকারী বেসরকারি সংগঠন সেভ আওয়ার সি।
 
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক) মো. বোরহান উদ্দিন রাসেলের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী এই কর্মশালায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ডিরেক্টর (মার্কেটিং, প্লানিং এবং পাবলিক রিলেশন আবু তাহির মোহাম্মদ জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সন্তোষ মুকার দেব, সেভ আওয়ার সি-এর  পরিচালক  (ওশেন এক্সপ্লোরার) এসএম আতিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন (মুন্না) এবং  সেভ আওয়ার সি-এর সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক। পরে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাবেদ আহমেদ আরও বলেন, আমাদের দেশে যে পরিমাণ পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে আমরা সেটাকে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনা’র পরে ঘটা করে আন্তর্জাতিক পর্যটন চালু করেছে। বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার কাভারেজ নিয়েছে। এটাও এক ধরনের ব্র্যান্ডিং। কিন্তু আমরা সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারিনি। এখনও সুযোগ আছে আমাদের কাজ করার। আশা করি সাংবাদিকরা চাইলে এটি কঠিন কাজ নয়। 

এই সময় তিনি অপরিকল্পিত পর্যটনে পরিবেশের ক্ষতির কথা স্বীকার করে দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও ব্র্যান্ডিংয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। 

কর্মশালায় বাংলাদেশে পর্যটনের উন্নয়নে ট্যুরিজম বোর্ডের ভূমিকা শীর্ষক বক্তব্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (মার্কেটিং, প্লানিং এবং পাবলিক রিলেশন) আবু তাহির মোহাম্মদ জাবের। তিনি জানান, বাংলাদেশের পর্যটনকে কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য ২৭টি গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। মন্ত্রীসভায় এগুলো অনুমোদন করা হলে প্রকাশ করা হবে। একইসংগে বাংলাদেশে পর্যটনকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ এলাকায় যাতে পর্যটনকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেও কাজ করছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সন্তোষ কুমার দেব কথা বলেন ইকো ট্যুরিজম নিয়ে। যেখানে ইকো ট্যুরিজমের নীতিমালাগুলো কী হওয়া উচিৎ, ইকো ট্যুরিজমের উপাদানগুলো কী কী, এটার চরিত্র বা ধরণ কেমন, ইকো ট্যুরিজমের ফলে সামাজিক এবং পরিবেশগত প্রভাব কী তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশে সমূদ্র নির্ভর পর্যটন কিভাবে সম্ভব, এর উন্নয়নে কার কী ভূমিকা নেওয়া উচিৎ সে সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

সেভ আওয়ার সি-এর পরিচালক ও ওশেন এক্সপ্লোরার এসএম আতিকুর রহমান কথা বলেন, পানির নিচের বৈচিত্র্য দেখার জন্য যে পর্যটন তথা আন্ডারওয়াটার ট্যুরিজম নিয়ে। স্কুবা ডাইভিংয়ে তথা পানির নিচের পর্যটনে বাংলাদেশে যে বিপুল সম্ভবনা রয়েছে সে চিত্রটাই তুলে ধরেন তিনি। একইসংগে পানির নিচে গিয়ে পর্যটকরা কী করবেন, কীভাবে ছবি তুলবেন বা ভিডিওগ্রাফি করবেন- সে সম্পর্কে দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন (মুন্না) কথা বলেন উপকুলীয় পর্যটন নিয়ে। পর্যটনের এই সেক্টরে রয়েছে ম্যানগ্রোভ, উপকুলীয় জীববিচত্র্য, বাস্তুতন্ত্র, সামূদ্রিক প্রাণী এবং পাখি। সে সংগে উপকুলীয় পর্যটনে কিংবা সাগর পর্যটনে পর্যটকদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

সাংবাদিকরা পরিবেশ, ইকো ট্যুরিজম, কোস্টাল ট্যুরিজম কিংবা আন্ডারওয়াটার ট্যুরিজম অথবা এই সেক্টরে বিভিন্ন দিক নিয়ে কিভাবে রিপোর্টিং করতে হবে-তা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সেভ আওয়ার সি’র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

 

বিভি/কেএস/রিসি 

মন্তব্য করুন: