• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাভিশনে গোলটেবিল বৈঠক

‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই’

কেফায়েত শাকিল

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:১৮, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই’

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশে বেড়েই চলছে ঝড়, বন্যাসহ নানা দুর্যোগ। প্রতিনিয়ত নানা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ, যা বাড়াচ্ছে দারিদ্র্য। এসব ক্ষতি কাটিয়ে জলবায়ু দুর্গত অঞ্চলের মানুষকে সমাজের মূল স্রোতে তুলতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা মিলছে না এসব উদ্যোগেও। তাই দুর্যোগ ঝুঁকি কমানো ও জলবায়ু অভিযোজনে সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের বিকল্প নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের বাংলাভিশন স্যাটেলাইন টেলিভিশনের কার্যালয়ে যৌথভাবে এই আয়োজন করেছে মুসলিম এইড-ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিস, ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং বাংলাভিশন।

বাংলাভিশন টেলিভিশনের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার তাইমুর রশিদের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুসলিম এইড-ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুহসীন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা দুর্যোগের মুখে পড়ছে। এসব দুর্যোগ ও দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে উন্নয়ন সংস্থাগুলোও। কিন্তু এই কাজে অনেক সময় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকে না। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো একসঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা আরও সহজ হবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানুষ বেশি উপকৃত হবে। আজকের এই আয়োজনও সেই উদ্দেশ্যেই করা।

গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ যৌথভাবে উপস্থাপন করেন মুসলিম এইড-ইউকে ফিল্ড অফিসের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এস এম মনোয়ার হোসেন এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-ইএসডিওর সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. শামসুল হক মৃধা। এ সময় তারা ভিডিও এবং পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার জলবায়ুদুর্গত আশাশুনি উপজেলায় বাস্তবায়িত তাদের প্রকল্প সম্পর্কে তুলে ধরেন।

সম্ভাবনার পাশাপাশি ওই এলাকার প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরে তারা বলেন, ‘লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকটে ওই এলাকার মানুষকে তাদের মোট আয়ের ২২ শতাংশ শুধু পানি সংগ্রহের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে। অপরদিকে, বিভিন্ন সরকারি বা উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হলেও প্রকল্প শেষে সেগুলো নষ্ট হলে আর মেরামত করা হয় না। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় অনেক সমস্যাই সমাধান করা যাচ্ছে না। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট সংস্কারসহ সরকারি-বেসরকারি নানা সাহায্য তৃণমূলে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে উপকূলের মানুষকে ভুগতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশের উপকূলের অধিকাংশ মানুষই কৃষিনির্ভর। কিন্তু দুর্যোগে প্রায়ই কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়, যা তাদের অনেক সময় নিঃস্বও করে দেয়। তাই জলবায়ু ঝুঁকির বিবেচনায় শস্যবিমা চালু করারও পরামর্শ দেন তারা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিগত সরকার উন্নয়নের নানা গল্প বললেও এখনো বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। এর বেশিরভাগই উপকূলীয় এলাকায়। কারণ, আমাদের দেশের দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। সিপিডির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আমরা দেখেছি, দেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ সরকারের সব সুবিধা পায় না। আমাদের উপকূলের বেশিরভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সরকার যদি কৃষি কার্ডটি যথাযথভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এটি তাদের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া, তৃণমূল মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কাজ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ভৌগোলিক কারণে আমাদের দেশ আগে থেকেই দুর্যোগপ্রবণ। জলবায়ু পরিবর্তন সেই দুর্যোগ আরও বাড়াচ্ছে। লবণাক্ততার কারণে আমাদের উপকূলে ধান উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং গবেষকদের মধ্যে সমন্বয় খুবই জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লবণাক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি তো ছয় মাস পাওয়া যাবে, বাকি ছয় মাস কী করবেন? তাও আবার এই পানি দীর্ঘদিন রাখায় দূষিত হয়ে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমি বলব, এসব অস্থায়ী প্রকল্প না নিয়ে গ্রাউন্ডওয়াটারের উৎস খোঁজা উচিত। গবেষকদের দিয়ে অনুসন্ধান করলে অবশ্যই পাওয়া যাবে। কাছাকাছি দূরত্বে যেখানে মিঠাপানি পাওয়া যাবে, সেখান থেকে ঢাকা ওয়াসার মতো সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) পরিকল্পনা ও জলবায়ু কার্যক্রমের প্রধান মো. মশিউর রহমান বলেন, আমরা পানির সমস্যা কাটাতে মানুষকে পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি দিচ্ছি। কিন্তু এই সংরক্ষিত পানিতে এখন ডেঙ্গু মশার উৎপাদন হচ্ছে। মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যাচ্ছে। এভাবে আমরা যখন একটি সমস্যা সমাধান করতে যাচ্ছি, তখন আরেকটি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে যুক্ত করতে হবে। কারণ, তারা জানে তাদের কোন সমস্যার সমাধানে কী প্রয়োজন। তাদের চাহিদার আলোকে কাজ করলে বেশি ফলপ্রসূ হবে।

মুসলিম এইড-ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের হেড অব প্রোগ্রাম (ভারপ্রাপ্ত) মো. আকরামুল হক বলেন, আমরা উন্নয়ন সংস্থাগুলো কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টে কাজ করতে পারি। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো প্রাতিষ্ঠানিক। আমরা কাউকে সহযোগিতা করে একটি কৃষি খামার করে দিচ্ছি, সে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যাচ্ছে, কোনো একটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এসে সেটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সে আবার দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কারণ, আমাদের শক্ত বেড়িবাঁধ নেই, অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিও নেই।

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ড প্রকল্পের মতো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ডিজাস্টার কার্ড বা ক্লাইমেট কার্ড চালুরও পরামর্শ দেন তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আমাদের জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রচুর গবেষণা হয়। প্রতি বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও সংস্থা ও সরকারি সংস্থা নানা গবেষণা করে। কিন্তু তাদের সেই গবেষণা নিজেদের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে অন্য কেউ কাজ করতে গেলে তাকে আবার গবেষণা করতে হয়। এজন্য আমি মনে করি, সব গবেষণাকে একত্রিত করতে সরকারি একটি উদ্যোগ প্রয়োজন, যেন যে কারও গবেষণার তথ্য লাগলে সেখান থেকে নিয়ে সরাসরি কাজে নেমে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কাজ যেকোনো দুর্যোগে মানুষকে সেবা দেওয়া। ফায়ার সার্ভিস আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোনো কাজ করে না। তারপরও ফায়ার সার্ভিস কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে? এটিকে খুব দ্রুত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা উচিত। দুর্যোগ-সংক্রান্ত সবকিছুর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের।

কেয়ার বাংলাদেশের ক্লাইমেট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ফিউচার্স প্রোগ্রাম ‘নবপল্লব প্রজেক্ট’-এর চিফ অব পার্টি সেলিনা শেলী খান বলেন, লবণাক্ত এলাকায় মিঠাপানির উৎস অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষক দলকে কাজে লাগানো দরকার। উপকূলে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রকল্প হয়। প্রকল্প চলাকালে ভালো কাজও হয়, কিন্তু সেটি টেকসই হয় না। প্রকল্প শেষে সব শেষ হয়ে যায়। একই এলাকায় একই কাজ একাধিক এনজিওকে করতে দেখা যায়। সবাই যার যার ফান্ডের এবং ফান্ডদাতার সময়ের আলোকে কাজ করে চলে যায়। আমি মনে করি, এনজিওগুলোর প্রকল্পেও সমন্বয় করা দরকার। এই কাজটি এনজিও ব্যুরো করতে পারে।

ক্লাইমেট ফান্ড ইস্যুতে তিনি বলেন, ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন ফান্ড কেন আমাকে ঋণ হিসেবে নিতে হবে? এ নিয়ে ডোনারদের সঙ্গে সরকারের বিতর্ক করা দরকার। প্রয়োজনে এই কাজে দেশীয় এনজিওগুলোকে ব্যবহার করতে পারেন। তবে তার আগে এনজিওগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারকেও সহায়তা দিতে হবে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার (হিউম্যানিটারিয়ান, ডিআরআর অ্যান্ড ক্লাইমেট) সায়মন রহমান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আমরা স্কুল-কলেজের শিশু ও তরুণদের নিয়ে মেটক্লাব করে তাদের কাজে লাগিয়ে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানোর উদ্যোগে বেশ সফলতা পেয়েছি। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনায় এনজিওগুলো নানা কাজ করে, টিম তৈরি করে। কিন্তু প্রকল্প শেষ হলে তারা যখন চলে যায়, উদ্যোগগুলোও তখন হারিয়ে যায়। অথচ এই টিমগুলোকে নিয়মিত তদারকি করে বছরজুড়ে সচল রাখা গেলে অনেক সুফল পাওয়া যেত। এজন্য জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলে কিছুটা বরাদ্দ বাড়িয়ে সরকার এই টিমগুলোর তদারকি ও সক্রিয় রাখার কাজ করতে পারে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এইচ এম খালেকুর রহমান বলেন, এনজিওগুলো ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসায়। এগুলো প্রকল্প চলাকালে ভালো ভূমিকা রাখলেও পরে নষ্ট হলে মেরামতের কোনো প্রকল্প থাকে না। কিন্তু যেকোনো প্রকল্পের সফলতার মানদণ্ড হওয়া উচিত সেটি কতটা টেকসই, তার ওপর ভিত্তি করে। প্রকল্প শেষে তারা আশা করে, নষ্ট হলে সরকার ঠিক করবে। যদিও সেই ব্যবস্থা তারা প্রকল্প চলাকালে তৈরি করে যায় না। উদ্যোগটি টেকসই করতে হলে এটি খুব জরুরি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, আগাম সতর্কবার্তা দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। আমরা সরকারি পূর্বাভাসদাতা সংস্থা হিসেবে সেটি তৈরি করি। তা জনগণের কাছে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দল, এনজিও সংস্থা এবং গণমাধ্যম। এ ক্ষেত্রে সবার সঙ্গে সমন্বয়ে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছি।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি মানবিক সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে তুলে আনতে সরকার যে চেষ্টা করছে, তা বিশ্বের অনন্য নজির। বাংলাদেশ যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, আমি বলব, সরকারের এখানে নেতৃত্ব দিতে হবে। মানবিক কাজগুলোর জন্য জাতীয় নীতি দরকার। জাতীয় নীতি হলে তখন সমন্বিত কার্যক্রম করা সম্ভব হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এনডিসি বলেন, আমরা এখন দুর্যোগের অনেক আগে থেকেই পূর্বাভাস পাই। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সতর্কবার্তা জানলেও শারীরিক অক্ষমতা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ নানা কারণে আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারেন না। তাদের নিয়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এখানে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারি। আমরা দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবসময় প্রস্তুত রাখতে এর বহুমুখী ব্যবহারের চেষ্টা করছি। দুর্যোগ ছাড়া বছরের অন্য সময় সেগুলোকে স্কুল, হাসপাতাল, সামাজিক সংস্থার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু আশ্রয় দেওয়া বা পুনর্বাসনেই শেষ নয়, আমরা দেখেছি দুর্যোগে মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী কার্যক্রমে মানসিক চিকিৎসাকেও সংযুক্ত করা দরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি বলেন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত কাজে সমন্বয় খুবই জরুরি। সম্প্রতি আমরা চট্টগ্রামের বন্যায় দেখেছি, একই জায়গায় সরকার এবং বেসরকারি নানা সংস্থা ত্রাণ দিয়েছে, অথচ তৃণমূলের অনেক জায়গার মানুষ কিছুই পায়নি। সমন্বয় হলে এমনটা হতো না। এজন্য সব কাজেই সমন্বয় দরকার।

ফায়ার সার্ভিসকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে নিয়ে আসার প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস যেহেতু দুর্যোগে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকে এবং এর আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোনো কাজ নেই, তাই ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসকে আমাদের মন্ত্রণালয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছি। শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরও আমাদের মন্ত্রণালয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে পূর্বাভাস ও দুর্যোগ প্রস্তুতির সমন্বয় আরও ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন বজ্রপাতজনিত দুর্যোগ মোকাবিলাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, বজ্রপাতে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। হাওরে তিনতলা শেল্টার তৈরি করা হবে, সাইরেন সিস্টেম থাকবে, বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হবে, যেন মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প প্রস্তুতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আমরা স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করছি। ঢাকার দুই সিটিতে সাড়ে ৪০০ ভূমিকম্প অ্যাসেম্বলি প্লেস শনাক্ত করেছি। সরকারি-বেসরকারি কার কাছে কী যন্ত্রপাতি আছে, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

শস্যবিমা চালুর বিষয়টি একনেকে তুলে ধরার কথাও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

বিভি/কেএস/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত