সেই অলৌকিক ঝুলন্ত পাথরের রহস্য বের করেছেন বিজ্ঞানিরা
ছবি: সংগৃহীত
ঝুলন্ত পাথর দুটি ১ হাজার ৪০০ বছর আগে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বেঁধে রেখে গেছেন, সেই থেকে পাথর দুটি নাকি আজও শূন্যে ঝুলে আছে, এমন দাবি প্রচলিত রয়েছে। আসলে এর সত্যতা কতটুকু? এবার সেই কথিত অলৌকিক ঝুলন্ত পাথরের রহস্য বের করেছেন বিজ্ঞানিরা।
মহান রাব্বুল আলামিন মাত্র ছয় দিনে এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে তাঁর অসীম ক্ষমতার বহু নিদর্শন রয়েছে। এসব নিদর্শন থেকে মানুষ সৃষ্টিকর্তার পরিচয় ও ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে। তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সঠিক পথের সন্ধান লাভ করতে পারে।
মানবজাতির মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ পৃথিবীতে বহু নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের কাউকে দান করেছেন বিশেষ অলৌকিক নিদর্শন বা মুজিজা। এর মধ্যে রয়েছে-হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, তাঁর জন্য সাগরের মাঝে রাস্তা তৈরি হওয়া, হজরত ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি পাওয়া, হজরত ঈসা (আ.)-এর ঊর্ধ্বগমন এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা।
তবে আলোচিত ঝুলন্ত পাথর দুটি আসলে সে ধরনের কোনো অলৌকিক নিদর্শন নয়। এটি মূলত একটি ভাস্কর্য। দূর থেকে পাথর দুটিকে শূন্যে ঝুলে থাকতে দেখা গেলেও এর পেছনে রয়েছে বিশেষ নির্মাণকৌশল।
ভাস্কর্যটি মিসরের কায়রো বিমানবন্দরের প্রবেশপথে স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৮ সালে এটি নির্মাণ করেন ভাস্কর শাবান আব্বাস। ভাস্কর্যটি এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার মূল রহস্য হলো, এর পাথরসদৃশ অংশগুলো প্রকৃত পাথর নয়; বরং পাতলা মাইল্ড স্টিলের শিট দিয়ে তৈরি। যার বাইরের অংশে পাথরের মতো রং করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাথর দুটিকে ধরে রাখা দড়ির মতো অংশটি মূলত লোহার রড। এটি নিচের অংশের ভেতর দিয়ে মাটির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ নির্মাণকৌশলের কারণে ভাস্কর্যটিকে শূন্যে ঝুলে থাকতে দেখা যায়।
অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের দৃশ্য দেখে অনেকে একে মহান আল্লাহর মুজিজা কিংবা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেওয়া বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন বলে মনে করেন। এ ধরনের দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস করলে ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কোনো বিষয়কে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আগে এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
বিভি/এনএইচ













মন্তব্য করুন: