• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনালী ব্যাংক পিএলসি

নীতিমালা ভেঙে ১১৬ কোটি টাকার বোনাস, দেড় বছরেও হয়নি আদায়

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:৪০, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নীতিমালা ভেঙে ১১৬ কোটি টাকার বোনাস, দেড় বছরেও হয়নি আদায়

নীতিমালা লঙ্ঘন করে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া বাড়তি দুই উৎসাহ বোনাসের প্রায় ১১৬ কোটি টাকা দেড় বছরেও ফেরত নেওয়া যায়নি। ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া হলেও নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস দেওয়ার সুযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আপত্তি জানালেও এখনো অর্থ আদায় করা সম্ভব হয়নি।

২০২৫ সালের ২৭ মার্চ বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এরপরও অর্থ ফেরত না আসায় গত ১১ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আবারও চিঠি দেওয়া হয়। এতে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ আদায় করে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঁচটি করে উৎসাহ বোনাস পেয়েছেন। প্রতিটি বোনাসের অর্থ মূলত এক মাসের মূল বেতনের সমান। ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার হিসাবে, একটি বোনাস বাবদ প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সে হিসাবে বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক পরিদর্শনেও বিষয়টি উঠে আসে। ২০২৫ সালের ১১ মার্চ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে দেওয়া চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২৩ সালের জন্য পাঁচটি উৎসাহ বোনাস বাবদ ব্যাংকটি ২৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জন্য বোনাস বাবদ সংস্থান রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালাতেও তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৮৭০তম পর্ষদ বৈঠকে পাঁচটি বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে এতে শর্ত দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আপত্তি উঠলে বাড়তি অর্থ ফেরত দিতে হবে।

এদিকে সরকারি ব্যাংকগুলোতে উৎসাহ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন নির্দেশিকা জারি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলসহ ছয় রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মীদের বোনাস দেওয়ার আগে পাঁচটি সূচকে মূল্যায়নের বিধান রাখা হয়।

সূচকগুলো হলো—চলতি মূলধনের ওপর নিট মুনাফার হার, আমানত বৃদ্ধির হার, ঋণ ও অগ্রিম বৃদ্ধির হার, শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে আদায়ের হার এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়ের হার। মোট নম্বরের ভিত্তিতে বোনাসের সংখ্যা নির্ধারিত হবে এবং সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া যাবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: