• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বন্ধ শিল্প চালু করতে ঋণ বিতরণের নীতিমালায় পরিবর্তন

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বন্ধ শিল্প চালু করতে ঋণ বিতরণের নীতিমালায় পরিবর্তন

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিলের অর্থ বিতরণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ পাওয়ার পর গ্রাহককে ঋণ দেওয়ার সুযোগ ছিল। এখন থেকে এ তহবিলের আওতায় গ্রাহককে প্রথমে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। পরে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। 

ঋণ বিতরণের পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে আবেদন করা সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী আরও ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করা যাবে।

‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক পুনরর্থায়ন স্কিম’ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও পুনঃঅর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ নিয়েছেন, সেই ব্যাংক থেকেই এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। ঋণের অর্থের সব লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অথবা রেভিনিউ হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের আয় হিসাব খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।

ঋণগ্রহীতার বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের শর্তও যুক্ত করা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়। ঋণ প্রত্যাশী গ্রাহক অতীতে অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া কিংবা ঋণের অর্থ অপব্যবহার করেননি—এ মর্মে ব্যাংককে তার কাছ থেকে ঘোষণাপত্র নিতে হবে।

আগে নিয়ম ছিল—প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিশেষ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে টাকা দিত। ব্যাংকগুলো সেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা হাতে পাওয়ার পর তা গ্রাহক বা ব্যবসায়ীদের মাঝে ঋণ হিসেবে বিতরণ করত। এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে টাকা পৌঁছাতে এবং যাচাই-বাছাই করতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যেত। ফলে ব্যবসায়ীরা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ঋণ পেতেন না। 

নতুন নিয়মে পুরো প্রক্রিয়াটি উল্টো বা পরিপূরক করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো বন্ধ শিল্প বা সেবা খাত চালু করতে হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রথমে নিজস্ব তহবিল বা টাকা থেকেই গ্রাহককে ঋণ দিতে হবে। পরে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অর্থের জন্য আবেদন করবে। আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ ছাড় করবে।

গত জুনে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরায় চালুর লক্ষ্যে গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ ঋণ কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংক ও গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করতে করতে মোট ঋণের পরিমাণ যখন ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছালে এই তহবিলের কার্যক্রম শেষ হবে

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত