• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিক্ষা হবে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

বাসস

প্রকাশিত: ১৬:৪৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৪৮, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শিক্ষা হবে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষাকে আর ব্যয়ের খাত হিসেবে দেখবে না; বরং শিক্ষা হবে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদ তৈরির প্রধান ক্ষেত্র এবং জাতি গঠনের মূল প্রকল্প।’ দায়িত্ব গ্রহণের দুদিন পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মিজ রেহানা পারভীন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নের ১২ দফা এজেন্ডা এবং একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তিন বছর মেয়াদি ‘ফিসকাল আপলিফট প্ল্যান’ গ্রহণ করা হবে।

বিগত বছরগুলোতে উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ অব্যবহৃত থাকার বিষয়টিকে ‘শিক্ষার্থীদের সুযোগের ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে মাইলস্টোনভিত্তিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। জুন মাসে তড়িঘড়ি করে বরাদ্দ শেষ করার সংস্কৃতি বন্ধে ই-জিপি ও প্রি-প্রকিউরমেন্ট পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা হবে।

ববি হাজ্জাজ জানান, মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার ‘ব্রিজ কোর্স’ চালু করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে অচলাবস্থা তৈরি না হয়।

শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পাঠ্যবই ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল চিন্তাধারা উৎসাহিত করতে আইটেম ব্যাংক ও ব্লুপ্রিন্টভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু পাঠদানের কেন্দ্র নয়, বরং ‘জ্ঞানকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনাও সরকারের এজেন্ডায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি ‘পাবলিক ড্যাশবোর্ড’ চালু করা হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। এর মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি, বই বিতরণ কার্যক্রম এবং শ্রেণিকক্ষের পাঠঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন নাগরিকরা।

শেষে তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না, শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য—সার্টিফিকেট নয়, সক্ষমতা অর্জন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।”

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: