• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে হামলা চালিয়ে ঘরে-বাইরে চাপে ট্রাম্প!

প্রকাশিত: ১০:০১, ৪ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানে হামলা চালিয়ে ঘরে-বাইরে চাপে ট্রাম্প!

পঞ্চম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা আর তীব্র সংঘর্ষে জ্বলছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ইরান থেকে লেবানন, ইসরাইল থেকে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও দুবাই—গোটা অঞ্চল এখন পরিণত হয়েছে এক যুদ্ধক্ষেত্রে। ইরানের রাষ্ট্রপতি ভবনসহ নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সেই সঙ্গে ইরানকে সমর্থন দেওয়ায় লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও লেবাননে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটশোর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

গত চার দিন ধরে তীব্র হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চলছে গোটা ইরানে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর থেকেই ইরানের বিভিন্ন শহরে চলছে মার্কিন-ইসরাইলি বাহিনীর তাণ্ডব। রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর এবার নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে হামলা চালিয়েছে জোটবাহিনী। ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বর্বর জোটবাহিনী শুধু ইরানেই হামলা চালিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে না। তেহরানকে সমর্থন দেওয়ায় এবার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মঙ্গলবার ভোর থেকেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ভেতরে প্রবেশ করে স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। একই সঙ্গে চলছে দফায় দফায় বিমান হামলা। এতে এ পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো শক্তিধর জোটের বিরুদ্ধে একাই লড়ছে ইরান। তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস ও তেল-গ্যাসক্ষেত্র উত্তেজনার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় সৌদি আরব ও কুয়েতে দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১৫টি দেশের মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা চতুর্থ দিনেও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে বিমান চলাচল স্থগিত রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে কয়েকটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে তারা।

তবে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার শুরু অনেক দেরি হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির যে অভিযোগ এনে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, সে দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ দেখেনি রাশিয়া।

অন্যদিকে, ইরানে হামলা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাপে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিবাদে ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। পাকিস্তানের করাচি ও ইসলামাবাদে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ। তারা মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যার নিন্দা জানান।

বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীরেও। তারা মার্কিনবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি খামেনি হত্যা ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেন।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে মার্কিনবিরোধী স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। পোড়ানো হয় মার্কিন পতাকা।

হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকেরাও।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: