• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

এশিয়ার নজর এখন মার্কিন তেলের দিকে! (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ১১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে এখন বিকল্প উৎস হিসেবে মার্কিন তেল ও গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো। ইরান-ইসরাইল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বর্তমানে মার্কিন জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় ২০% এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বা এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর প্রায় ৮০% তেল এই রুট দিয়ে আসে।

তবে বর্তমানে ইরান ও ইসরাইলের সরাসরি সংঘাতের ফলে এই পথটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।  বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস মিডিয়া’র তথ্যমতে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে এশিয়ায় সরবরাহকৃত মার্কিন ‘লাইট সুইট ক্রুড’ তেলের দাম ৪৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ভাড়া চার গুণ বেড়েছে। 

এরই মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাপানি শোধনাগারগুলো আগামী জুনে সরবরাহের জন্য প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল মার্কিন অপরিশোধিত তেল কিনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি চুক্তির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এছাড়া মার্কিন তেল আমদানিতে বড় ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। 

সংঘাতের কারণে জ্বালানির প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এখন তাদের মজুত করা তেলের ওপর নির্ভর করছে, যা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেপলার-এর সিনিয়র ক্রুড তেল বিশ্লেষক নাভিন দাস বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, বিশেষত দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মজুত করা তেল দিয়ে তারা বড়জোর ২০ থেকে ৫০ দিন চলতে পারবে, যা এই পরিস্থিতিতে বেশ আশঙ্কাজনক। এই দেশগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন—কাজের সময় কমিয়ে দেওয়া, 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' চালু করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা কমিয়ে আনা। তেলের দাম যদি এভাবে চড়া থাকে, তবে মানুষের খরচ করার ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়।”  

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে 'ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন' শুরু হবে। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যবহার কমিয়ে দেবে। এতে পরিবহন, উৎপাদন এবং কৃষি খাতের খরচ আকাশচুম্বী হবে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবী এখন একটি 'গ্রেট এনার্জি রিশাফলিং' বা জ্বালানি পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তেল নির্ভরতা কমানো এখন আর কেবল অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যারা দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে পারবে, তারাই এই সংকট সামাল দিতে পারবে।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: