• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

আমিরাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস, উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার

প্রকাশিত: ১৬:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আমিরাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস, উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ধাক্কায় টালমাটাল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি। ইরান যুদ্ধের জেরে গত কয়েক দিনে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার। ৩১ মার্চ আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এত বিপুল অর্থ হারানোয় বাজারগুলোকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক বাজারগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজার অনেক ছোট হলেও অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দেশটি আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ পুঁজিবাজার হিসেবে অবস্থান করছে। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই ও আবুধাবির প্রধান সূচক যথাক্রমে প্রায় ১৬ শতাংশ এবং ৯ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সাধারণ সূচক প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে, আর বৃহত্তর আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক কমেছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দুবাই ও কাতার পর্যটনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধকালীন ঝুঁকির কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এমিরেটস বা কাতার এয়ারওয়েজের মতো বড় এয়ারলাইনগুলো রুটের খরচ বাঁচাতে টিকিটের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে পর্যটন খাতে শত কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আরব দেশগুলো প্রায় ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। ইউএনডিপি-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্লুমবার্গ জানায়, যুদ্ধজনিত ক্ষতির ফলে এই অঞ্চলে বেকারত্বের হার প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে এবং আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই সংঘাতের ফলে আরব দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যদি যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে আরব দেশগুলোর গত ২০ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের মধ্যেই নতুন সংকট তৈরি করেছে বিশাল ব্যয়ভার মেটানোর চাপ। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের খরচ আকাশচুম্বী। যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ১২ তম দিনে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। আর যুদ্ধের ৩১ তম দিন শেষে এই অঙ্ক কয়েকশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলমান যুদ্ধের এই বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আহ্বান জানাতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ৩০ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো এবারও মার্কিন মিত্রদের কাছ থেকে যুদ্ধের অর্থ আদায়ের বিষয়টি প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে।

এসব রিপোর্ট কেবল সংখ্যা নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা যদি দ্রুত নিরসন না হয়, তবে এর প্রভাব কেবল আরব দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা বিশ্বের অর্থনীতিতেই আঘাত হানবে।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত