• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এআই, আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কর্মচারীরা

প্রকাশিত: ১৫:২৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এআই, আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কর্মচারীরা

একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিত্যনতুন দিগন্ত উন্মোচন, অন্যদিকে জীবিকা হারানোর গভীর আতঙ্ক—প্রযুক্তির এই মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ব আজ এক দ্বিমুখী বাস্তবতার মুখোমুখি। একদল যখন মেধা ঢেলে সাজাচ্ছেন এআই-এর ভবিষ্যৎ, অন্যদল তখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন রাজপথে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর বিখ্যাত মসকোনি সেন্টারে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী সেলসফোর্সের বার্ষিক প্রযুক্তি সম্মেলন 'ড্রীমফোর্স। এই কনফারেন্সে বক্তা এবং প্রদর্শকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও সাফল্য প্রদর্শন করছেন। সেলসফোর্সের সিইও মার্ক বেনিয়ফ করপোরেট ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন লাইভ এআই ইন্টারফেস 'AIForce' উন্মোচন করেন, যা ব্যবসার দৈনন্দিন কাজগুলোকে মানুষের সহায়তা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদন করতে সাহায্য করবে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এছাড়া মার্ক বেনিয়ফ এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং যৌথভাবে Koa নামের একটি নতুন সিআরএম রিজনিং মডেলের কথা জানান। এটি এনভিডিয়ার সুপার টেকনোলজির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ২৭ বছরের সেলসফোর্স ডাটার সাহায্যে জটিল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

সম্মেলনে ১,৬০০টিরও বেশি সেশন এবং ১৫০টিরও বেশি লাইভ ডেমো ছিল। সেখানে দেখানো হয় কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন এআই এজেন্ট ব্যবহার করে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই রিয়েল-টাইমে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে পারে এবং ডাটা অ্যানালাইসিস সম্পন্ন করতে পারে। 

সম্মেলনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটলেও ভেন্যুর বাইরে দেখা গেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। এআই যেন মানুষের ক্ষতি না করে দায়িত্বশীলভাবে বিকশিত হয়, তার জন্য কড়া নীতিমালার দাবিতে আন্দোলনে করেন সাধারণ কর্মীরা। শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন যে, এআই ও অটোমেশনের ফলে সিকিউরিটি গার্ড বা এয়ারপোর্ট ওয়ার্কারদের মতো সাধারণ চাকরিগুলো ঝুঁকিতে পড়ছে। এই মুহূর্তে কোনো শক্তিশালী সরকারি তদারকি না থাকায় তারা উদ্বিগ্ন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির অবাধ বিকাশ ঘটলেও এর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং নৈতিক ব্যবহারের ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বা সরকারি কঠোর আইন নেই। ফলে কায়িক ও সেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে এআই চালিত রোবটিক্স বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহারের কারণে সাধারণ কর্মচারীদের চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই-এর মতো শীর্ষ টেক ফার্মগুলোর বেশ কিছু প্রাক্তন কর্মী ও গবেষক ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছেন যে, কোম্পানিগুলো সুরক্ষার চেয়ে বাণিজ্যিক সুবিধাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো, এআই মডেল গুলোর ভবিষ্যতে মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজের কোড নিজে সংশোধন ও উন্নত করতে পারার সক্ষমতা অর্জন। যদি কোনো অ্যালগরিদম মানুষের চেয়ে দ্রুত চিন্তা করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করে, তবে তাকে মানবজাতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে—সেটিই বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। 

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: