দায়িত্ব ছাড়ার পর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দ্বিধা নেই: রিজওয়ানা হাসান
ছবি: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশের গত ৫৪ বছরের পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা ও জটিল সমস্যাগুলো মাত্র দেড় বছরের সরকারের পক্ষে পুরোপুরি সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। দায়িত্ব শেষে নিজের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বা প্রয়োজনে আইনের মুখোমুখি হতেও তার কোনো আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করে বলেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি)-এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের পরিবেশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ সংস্কারের উদাহরণ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, পলিথিন নিষিদ্ধের আইন বহু আগেই প্রণীত হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ছিল না। বর্তমান সরকার সেই আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা প্রকৃত সংস্কারের দৃষ্টান্ত। একইভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন ও অন্যান্য কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সেখানে জীববৈচিত্র্য ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে এসব ইতিবাচক উদ্যোগে অনেক পরিবেশবাদী সংগঠনকে প্রত্যাশিতভাবে পাশে পাওয়া যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও জানান, দেশের চারটি নদী ও ২০টি খাল দূষণের জন্য দায়ী প্রায় ৭৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে অন্তত তিন বছর অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আগের সরকারের সময়ে। বর্তমান সরকার সেখানে র্যাম্প না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আদালতও এ বিষয়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রকল্প বাতিল করা হলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ করা জটিল হয়ে পড়েছে।
সম্মেলনে দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী, গবেষক ও বিভিন্ন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিভি/এআই




মন্তব্য করুন: