দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা পাবে চিকিৎসা অনুদান, আবেদন যেভাবে
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট।
এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, ২০২৬ প্রান্তের জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি শাখা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুযায়ী এ অনুদান দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সময়কাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর অথবা এর আগের এক বছরের মধ্যে হতে হবে। একজন শিক্ষার্থী এ অনুদানের জন্য একবারই আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩.৫০ এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে জিপিএ-৪-এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩.০০ প্রাপ্তির প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
দারিদ্র্যের প্রমাণ হিসেবে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানদের পিতা, মাতা বা অভিভাবকের বেতন গ্রেড সংক্রান্ত অফিস প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।
অন্যান্য ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া ‘পিতা, মাতা বা অভিভাবক দরিদ্র’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে।
গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক গুরুতর আহত মর্মে প্রত্যয়নযুক্ত চিকিৎসা সনদের কপি আপলোড করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে ট্রাস্ট নির্ধারিত ফরমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন, জন্মনিবন্ধন সনদ, পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি, শিক্ষার্থীর ছবি, স্বাক্ষর এবং ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্পষ্ট কপি আপলোড করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। পুরো আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং কোনো হার্ড কপি পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
অনুদানের অর্থ পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থী, পিতা বা মাতার নিজস্ব সচল অনলাইন ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ নম্বর ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। একই সঙ্গে চেকের ভেতরের পাতার কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী কিংবা তার পিতা-মাতার ব্যাংক হিসাব ছাড়া অন্য কারও হিসাব নম্বর গ্রহণ করা হবে না। তবে পিতা-মাতার মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে যার ওপর নির্ভরশীল, সেই অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব বিবেচনা করা হবে। সচল ও সঠিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য না দিলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হলে পুনরায় অর্থ প্রেরণ সম্ভব হবে না।
আবেদন করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের নির্ধারিত ‘ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে। অনলাইন আবেদনে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান বা বিভাগীয় প্রধানকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে ইআইআইএন ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদন ডাকযোগে অথবা ই-মেইলে পাঠানো যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি অবহিত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক বা থানা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: