• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

কে হচ্ছেন ছাত্রদলের কাণ্ডারী? আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: ২২:৫৬, ১১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০০:০৯, ১২ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কে হচ্ছেন ছাত্রদলের কাণ্ডারী? আলোচনায় যারা

ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবিসহ বিভিন্ন কারণে এরইমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিএনপির প্রধান সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যদিকে পহেলা মার্চ রাকিব-নাছিরের কমিটির দুই বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে দলের হাইকমান্ড এরইমধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীরা চাইছেন, সিলেকশন নয়, কাউন্সিলেই নির্ধারণ হোক ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্ব।

ছাত্রদলের সর্বশেষ পাঁচ কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে রাজীব–আকরাম কমিটি ছাড়া বাকি চারটি প্রায় দুই বছরের মতো মেয়াদ পালন করেছে। চলমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-শীর্ষ এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে ঘিরে সংগঠনটির ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ, লবিং ও আলোচনা। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন কমিটিতে আলোচনায় আছেন প্রায় ডজন খানেক নেতা। জানা গেছে, আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৮-০৯ থেকে শুরু করে ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, নেতৃত্ব বাছাইয়ে ত্যাগী, পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত, সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি ছাত্রসমাজের 

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে ২০০৮–০৯ সেশনের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল। ছাত্রদল করার কারণে ২০১০ সালে ছাত্রলীগের নির্যাতনের মুখে ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত হন। ২০২১ সালে তার নেতৃত্বে ঢাবির নতুন কমিটি তৎকালীন ভিসি আক্তারুজ্জামানের সাথে দেখা করতে গেলে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া গ্রেফতার রিমান্ডে পুলিশের অমানষিক নির্যাতন সইতে হয় তাকে। এ ছাড়া একই সেশনের মনজরুল রিয়াদ, এজাজুল কবির রুয়েল এবং কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতও আলোচনায়। 

একই সেশনের রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে আহতদের চিকিৎসা সেবা ব্যপক অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি রাজপথের সকল কর্মসূচিতে সম্মুখ সাড়িতে ছিলেন তিনি। মেডিকেল ইউনিট থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তিনি। বর্তমানে এফসিপিএস অধ্যয়নরত।

২০০৯–১০ সেশন থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। ছাত্ররাজনীতির করতে গিয়ে আমানের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয় ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর। তাকে গুম করা হয়। অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে হাত-পা-চোখ-মুখ বেধে টানা অর্ধ সপ্তাহ পেটায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। একাধিকবার সেন্সলেস হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় তার পায়ের আটটি নখ তুলে ফেলে পতিত সরকারের বাহিনী।

এ ছাড়া আলোচনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পদক পদমর্যাদায় কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ। তারও রয়েছে- আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখার দৃষ্টান্ত। রিমান্ড ও কারাগার সঙ্গী হয়েছে তার। এছাড়া ছাত্রলীগের গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এবারই প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয় ইউনিট থেকে আলোচনায় সেখানকার সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু। ছাত্র রাজনীতি করতে এসে ১৪টি মামলার পাশাপাশি রিমান্ডে ভয়াভহ নির্যাতন সইতে হয়েছে তাকে। ২০০৯ সালে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয় ছাত্রলীগ। এ ছাড়া তার বিভীষিকাময় সন্ধ্যা ছিল-২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল। এদিন ইফতারের পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কোপায়। একপর্যায়ে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে যায় তারা।

২০০৯–১০ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রকাশ্যে ছাত্রদল করার কারণে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ আদনান। একপর্যায়ে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দলের পক্ষে সকল কর্মসূচিতে বিশেষ করে হরতাল-অবরোধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন আদনান।

এর বাইরে ২০১০-১১ সেশনের নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি শাখার ১ নম্বর সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ। ২০১১–১২ সেশনের মধ্যে আলোচনায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স ও ঢাবি শাখা ছাত্রদলের নাহিদুজ্জামান শিপন, নাছির উদ্দিন শাওন, রাজু আহমেদসহ বেশ কয়েকজন। 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: