• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

‘কাবা শরীফের ইমামকে নিয়ে ১০ লাখ আলেম ওলামার সম্মেলন হবে ঢাকায়’

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ১৯ মার্চ ২০২২

আপডেট: ২০:৪৪, ১৯ মার্চ ২০২২

ফন্ট সাইজ
‘কাবা শরীফের ইমামকে নিয়ে ১০ লাখ আলেম ওলামার সম্মেলন হবে ঢাকায়’

সাঈদ খোকন

ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে দশ লাখ আলেম-ওলামাদের সমাবেশের আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদ খোকন। 

তিনি জানান, এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন পবিত্র কাবা শরীফের ইমাম।

শনিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস- এর কেন্দ্রীয় মসজিদ-বংশাল বড় জামে মসজিদ-এর উদ্যোগে দেশ, জাতি ও সামাজিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আলেম সমাজের ঐক্যের অপরিহার্যতা শীর্ষক (২দিন ব্যাপী) “ওলামা সমাবেশ” প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন তিনি। সাঈদ খোকন এই সংগঠনের উপদেষ্টা।

সমাবেশে অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক এর সভাপতিত্বে জমঈয়তের সহ-সভাপতি ও বংশাল পঞ্চায়েতের মুতওয়াল্লী হাজী মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন, বীর মুক্তিযুদ্ধা ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মু. রুহুল আমিন, ড. আহম্মদ উল্লাহ ত্রিশালী, জমঈয়তের সেক্রেটারী জেনারেল ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ খান মাদানীসহ ইউনাইটেড গ্রুপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নবী উল্লাহ নবী বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে সাঈদ খোকন বলেন, দশ লাখ আলেম ও ওলামাদের সমাবেশের আয়োজন করতে আমরা উদ্যোগ নিবো। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আমাদের কাবা শরীফের ইমাম। আমরা এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করবো। এছাড়া আমাদের এই সংগঠনের মাধ্যমে অভাবগ্রস্থ আলেমদের পাশে দাঁড়াতে ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি। আলেমদের জন্য কাজ করার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না।  

তিনি বলেন, একটা সমাজকে সমৃদ্ধ করতে হলে ন্যায়-বিচার অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় এই উপমহাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস বলে, শাসকরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সব সময় কাজ করেছেন। খুব কম শাসকের বেলায় ন্যায় বিচার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে এমন সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে যেসব মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে সেই রাষ্ট্রগুলোকেও আমরা আলোচনাসমালোচনার ঊর্ধ্বে বলতে পারি না। তাদের দশটা ভালো কাজ থাকলে দুইটা মন্দ কাজও হয়। কিন্তু ন্যায় বিচার সম্পর্কে সমালোচনা এই মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তেমন আমরা দেখি না। ন্যায় বিচার অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে সেখানে রয়েছে। কারণ সেখানকার বিচার ব্যবস্থা কোরআন এবং সুন্নাহর আলোকে এখনও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থার আইনেও স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোরআন এবং সুন্নাহবিরোধী কোনো কিছু দেশে থাকতে পারবে না। তারপরও স্বাধীনতার এই ৫০ বছরে বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে যেতে পারেনি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে- সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা কিংবা শতভাগ আস্থা যে বিচার ব্যবস্থার প্রতি যে রয়েছে সেটাও আমরা নিঃসঙ্কোচ চিত্তে বলতে পারি না। তাই যারা বিচারকাজে যুক্ত রয়েছে তাদেরকে যদি উদ্বুদ্ধ করতে পারি, বুঝাতে পারি, তাহলে বেশিরভাগ বিচারক বুঝতে পারবেন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। এই জন্য আলেম সমাজের দায়িত্ব রয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিস্থিতি বর্ণনা করে সাঈদ খোকন বলেন, আমরা সোস্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছি- সাধারণ মানুষ টিসিবির পণ্য কেনার জন্য হাহাকার করছে। ট্রাকে পণ্য নেই, তবুও মানুষ ট্রাকের পেছনে দৌড়াচ্ছে, পণ্যের জন্য একে অপরের সঙ্গে মারামারি করছে। একই সময়ে আমরা দেখতে পায় কথিত ধনাঢ্য ব্যক্তি বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে মাত্র কয়েক ঘন্টার আনন্দের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে শিল্পী এনে আনন্দ ফূর্তি করছে। অথচ এই টাকাগুলো যদি এই দেশের গরীব মানুষের পেছনে ব্যয় হতো তাহলে একটি সমতার রাষ্ট্র পরিচালিত হতো। কিন্তু এই ধনীদের বেলায় তা হচ্ছে না। শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশের অভাব দূর করা সম্ভব নয়। তাই আলেম-ওলামাদের উচিত এসব আমোদ-ফুর্তিতে মেতে থাকা ধনীদেরকে বুঝানো। তাহলে তাদের মধ্যে চেতনা সৃষ্টি হবে। তারা উজ্জীবিত হবেন এবং একটা সমতার রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। এই জন্য অবশ্যই আলেম সমাজের ঐক্যের প্রয়োজন।

বিভি/এসএইচ/এজেড

মন্তব্য করুন: