পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সেই আস্তানায় পড়ে আছে ৩ মরদেহ
কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের একটি আস্তানায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় লাশ তিনটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় এবং ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছে। লাশগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে, তবে রাতের বেলা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন হওয়ায় সকালে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ওই একই পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানা ঘেরাও করে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সশস্ত্র পাচারকারীরা। এ সময় পাচারকারীদের গুলিতে মো. তিতাস শেখ (২৭) নামের এক সেনা সদস্য নিহত হন।
যৌথ বাহিনীর পাল্টা জবাবে ঘটনাস্থল থেকে পাচারকারীদের জিম্মিদশা থেকে ৫৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়াদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেনা সদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকে পুরো পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী।
এদিকে, পাহাড়ে তিনজনের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাহাড়ে আস্তানা গড়ে তোলা এসব সশস্ত্র অপরাধী চক্রকে চিরতরে নির্মূল করতে তারা সেনা ও যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী জানান, “দায়িত্ব পালনকালে সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় প্রশাসন গভীরভাবে শোকাহত। পাহাড়কে অপরাধমুক্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো অপরাধীরই পার পাওয়ার সুযোগ নেই। সশস্ত্র চক্র নির্মূলে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: