মানবাধিকার রক্ষায় সংসদে নতুন উদ্যোগ, মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়ের আহ্বান
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ও ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মানবাধিকার ও শান্তিবিষয়ক সংসদীয় ককাসের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত পার্লামেন্টারি ককাস অন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিসের (Parliamentary Caucus on Human Rights and Peace) প্রথম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ককাসের সভাপতি ফাহিমা নাসরিন এমপি।
বৈঠকে ককাসের সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি, সাঈদ আল নোমান এমপি, মীর আহমাদ বিনকাসেম এমপি, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এমপি, মো. আবুল হাসনাত এমপি, জহরত আদিব চৌধুরী এমপি, সানজিদা ইসলাম এমপি ও আন্না মিনজ এমপি অংশ নেন। ককাসের পৃষ্ঠপোষক জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
নবগঠিত ককাসের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার বলেন, অতীতে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং যারা এর শিকার হয়েছে, তাদের শনাক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন থেকে কাজ করার উদ্দেশ্যেই এ ককাস গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যাতে ভুক্তভোগী সাজতে না পারে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে ককাসের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে এর আগে এ ধরনের সংসদীয় ককাস গঠিত হয়নি উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ককাসকে কার্যকর কমিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে দলগতভাবে সমন্বয় করে একযোগে কাজ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ককাসকে একটি শক্তিশালী কাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে ককাসের সভাপতি ও সদস্যরা এর কর্মপরিধি আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, এ-সংক্রান্ত সভা-সেমিনার আয়োজন এবং গবেষণাকর্মে ককাসের সদস্যদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
ককাসের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: