খুতবা দিতে মিম্বরে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ইমাম
মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে আল্লাহর বাণী শোনানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ইমাম। জুমার খুতবা পড়বেন—এই ছিল শেষ প্রস্তুতি। কিন্তু খুতবা আর পড়া হলো না। তার আগেই থেমে গেল হৃদস্পন্দন। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জুমা নামাজের খুতবা পড়ার প্রস্তুতিকালে মৃত্যু হয়েছে হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মবিন মোল্লার (৬৫)।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার মাঝিগাছা পূর্বপাড়া পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লিরা জানান, খুতবার প্রস্তুতি নিতে মিম্বরে উঠার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে প্রাথমিকভাবে সহায়তা দেওয়া হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ইমামের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মসজিদ প্রাঙ্গণে নেমে আসে গভীর নীরবতা। কান্নায় ভেঙে পড়েন মুসল্লিরা। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না—যে মানুষটি একটু আগেও সুস্থভাবে খুতবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনি আর নেই।
মরহুমের ছেলে জিসান আহমেদ জানান, আমার বাবা নিয়মিতভাবেই জুমার নামাজ পড়াতেন। কোনো অসুস্থতার কথা জানাননি। হঠাৎ করেই এই ঘটনা ঘটে। হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মবিন মোল্লা দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে হরিপুর ও মাঝিগাছা গ্রামের বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু একজন ইমামই নন, ছিলেন একজন সৎ, বিনয়ী ও আদর্শ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধর্মীয় বিষয়ে তিনি ছিলেন ত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।
স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, তিনি কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। তার খুতবা ও আচরণ মানুষকে দ্বীনের পথে উদ্বুদ্ধ করত। এমন একজন ইমামের মৃত্যু পুরো এলাকার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শুক্রবার বাদ মাগরিব তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার যুগিচাপর মোল্লা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
বিভি/টিটি




মন্তব্য করুন: