কাঁটাতারে ঝুলে থাকা এক কিশোরীর আর্তনাদ
দেড় যুগেও মেলেনি ফেলানী হত্যার বিচার, হতাশায় দিন গুনছেন বাবা
সংগৃহিত
বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর নির্মম হত্যাকাণ্ড আজও ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। ঘটনার প্রায় দেড় যুগেও ন্যায়বিচারের মুখ দেখেনি পরিবার। সময়ের আবর্তে অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলায়নি ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের অপেক্ষা; বিচারের, ন্যায়ের অপেক্ষা।
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ ইউনিয়নের কলোনিটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন সাধারণ দিনমজুর। অভাব-অনটনের সংসারে একটু স্বচ্ছলতার আশায় ১৪ বছরের মেয়ে ফেলানীকে সঙ্গে নিয়ে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতে। ভারতের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় ইটভাটা ও বাসাবাড়িতে কাজ করে দিন চলছিল তাদের। এরই মধ্যে দেশে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হলে মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু, সেই ফেরা আর হয়নি।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে ভারতের কয়েকজন দালালের সহযোগিতায় সীমান্ত পার হওয়ার সময় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর ও ভারতের দিনহাটা সীমান্তের খিতাবেরকুঠি এলাকার ৯৪৭ নম্বর পিলারের পাশে ঘটে মানবতাকে নাড়া দেওয়া সেই ঘটনা। কাঁটাতারের বেড়া টপকানোর মুহূর্তে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী। তার নিথর দেহ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলে ছিল, যে দৃশ্য বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে, নাড়া দেয় আন্তর্জাতিক বিবেককে।
ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে ‘জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস’ কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা হানিফ আলী সাক্ষ্য দেন বিএসএফ কোর্টে। কিন্তু, ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়। এ রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় বিচারের দাবি জানান নুরুল ইসলাম।
এরপর ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি। কিন্তু, ২০১৫ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ কোর্ট। দুই দফা খালাসের প্রতিবাদে নুরুল ইসলাম ও ভারতীয় মানবাধিকারকর্মী কিরিটি রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেন। তবে, দীর্ঘসূত্রতা আর বারবার শুনানির তারিখ পেছানোর কারণে আজও সেই রিটের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ফেলানী হত্যার বিচার এখনও আটকে আছে। ১৫ বছর হয়ে গেল। কিন্তু, এখনও বিচার পাইনি। একজন বাবা হিসেবে এই কষ্ট সহ্য করা খুব কঠিন। আমার চোখের সামনে মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, কখনও কি তার বিচার হবে?
তিনি আরও বলেন, সামনে দেশে নতুন সরকার আসছে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আমি শুধু চাই আমার মেয়ের হত্যার বিচার আগে হোক। অমিয় ঘোষের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ফাঁসি হয়। সরকার পরিবর্তনের পর মামলা আর আগাচ্ছে না, মামলা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছি না।
বিভি/পিএইচ




মন্তব্য করুন: