• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

‘এই প্রথম একসঙ্গে এক পরিবারের নয় জনের কবর খুঁড়লাম’

মোংলা প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৭:৪০, ১৩ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
‘এই প্রথম একসঙ্গে এক পরিবারের নয় জনের কবর খুঁড়লাম’

দেড় যুগের বেশি সময় ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌর কবরস্থানের খাদেম মুজিবুর ফকির। জীবনে প্রথম তাকে একসঙ্গে নয়জনের কবর খুঁড়তে হয়েছে। তাও সবাই একই পরিবারের সদস্য।

মুজিবুর ফকির জানান, পরিবারের সম্মতিতে একই স্থানে পাশাপাশি নয়টি কবর খোঁড়া হয়েছে। ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কখনও একসঙ্গে একই পরিবারের এতো সদস্যের জন্য কবর খুঁড়তে হয়নি। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।

এই নয়জন রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত হন। নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদেরকে বহনকারী মাইক্রোবাসে থাকা মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহতদের সবাই একটি বিয়ের আনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফিরছিরেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের আবদুস সালাম মোড়লের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

বাগেরহাটের মোংলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান ছাব্বির বিয়ে করেন আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুকে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) একটি মাইক্রোবাসে তারা বাগেরহাটের মোংলায় বাড়িতে ফিরছিলেন।

নিহতদের মধ্যে বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম—একই পরিবারের নয় জন সদস্য।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) মোংলার শেলাবুনিয়া এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেই বাড়িসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মোংলা পৌর কবরস্থানে প্রস্তুত করা হয়েছে পাশাপাশি নয়টি কবর। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে  উপজেলা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে একই পরিবারের নয়জনকে কবরগুলোতে দাফন করা হয়।

স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে হারানো আশরাফুল আলম জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন—সবাইকে হারালাম। আমি এখন একা হয়ে গেলাম।

নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। 

এদিকে মর্মান্তিক ওই দূর্ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আমি ও সরকারের জেলার কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। এ দুর্ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: