• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বিটিআরসিতে অবৈধ নিয়োগ ইস্যুতে হাইকোর্টের রুল 

প্রকাশিত: ১৩:১০, ৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৩:১৭, ৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিটিআরসিতে অবৈধ নিয়োগ ইস্যুতে হাইকোর্টের রুল 

ছবি: ফাইল ফটো

বিটিআরসিতে অবৈধভাবে নিয়োগের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য গত ১৩/১২/২০২০ইং তারিখে বিজ্ঞান, তথ্য এবং প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তর প্রেরিত অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্টে প্রকাশ পায়।

সংশ্লিষ্ট নিয়োগ সমুহে চাকরিবিধি, নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই স্বেচ্ছাচারীভাবে নিয়োগ প্রদানের বিশদ তথ্য উঠে আসে অডিট প্রতিবেদনে। বারংবার ব্যাখ্যামূলক জবাব চাওয়ার পরেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে অডিট অধিদপ্তরকে সন্তোষজনক কোন জবাব না দিয়ে বিষয়টিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয় ।

পরবর্তীতে, অডিট প্রতিবেদনের ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর হতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে SFI অনুচ্ছেদ-০১ এর “নিয়োগ বিধি উপেক্ষা করে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শকে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন পদে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রদানের” তথ্যের উল্লেখ করে গত ১৬/১০/২০২৫ইং তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের মতামতসহ জবাব প্রদানের জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান তা প্রতিপালন করেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও টেলিযোগাযোগ সেক্টরের অনিয়ম, দুর্নীতি অনুসন্ধানে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। সেই টাস্ক ফোর্স কর্তৃক দাখিলকৃত শ্বেতপত্রে ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে অবৈধভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। সেই শ্বেতপত্রের বরাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিগত ১৪/১২/২০২৫ ইং তারিখে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে পুনরায় অনুরোধ করে চিঠি পাঠায়। কিন্তু বিটিআরসির চেয়ারম্যান সেটিও করেননি । 

উপরন্তু বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া বর্তমানে উপ-পরিচালক পদে কর্মরতদের পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য ০৩/১১/২০২৫ ইং তারিখে ডিপিসি গঠন করা হয় এবং তাড়াহুড়া করে ঘন ঘন ডিপিসির মিটিং ডেকে পদোন্নতি প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত  রাখে বিটিআরসি ।

এই অবস্থায় বিটিআরসিতে কর্মরত ৬ জন উপ-পরিচালক যথাক্রমে সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মোঃ আহসানুল হাবীব, মোঃ জাকির হোসেন খান, এসএম আফজাল রেজা, মোঃ আসিফ ওয়াহিদ, মোঃ হাসিবুল কবির অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং Serious Financial Irregularity (SFI) তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পদোন্নতি প্রদান না করার দাবি করে বিগত ০৫/০২/২০২৬ ইং তারিখে আইনি নোটিস প্রেরণ করেন । এরই ধারাবাহিকতায় তারা মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন । 

মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জনাব রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি জনাব মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ০৫/০৩/২০২৬ ইং তারিখে শুনানী শেষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত গত ১৬/১০/২০২৫ইং এবং ১৪/১২/২০২৫ইং তারিখের চিঠি অনুসারে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে এবং একই সঙ্গে Serious Financial Irregularity (SFI) তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পদোন্নতির জন্য গত ০৩/১১/২০২৫ ইং তারিখে গঠিত গঠিত ডিপিসির কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেন । 

রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অডিট উইং এর যুগ্ম পরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও প্রশাসন বিভাগের মহা পরিচালককে। আদালতে রিট পিটিশনের পক্ষে শুনানী করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ।

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত