শিশু তানিয়ার ওপর নির্যাতনকারী গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর নামে মামলা
অবশেষে খাগড়াছড়ির গৃহকর্মী শিশু তানিয়ার ওপর নির্যাতনকারী গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ছোটনকে আসামি করে ঢাকার কলাবাগান থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার কাফরুল থানা পুলিশ তাদের আটক করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাবাগান থানায় হস্তান্তর করে। তবে এখনো আটক হয়নি তানিয়ার উপর নির্যাতনকারী গৃহকর্তা রাসেল ও গৃহকর্ত্রী ছোটনের সন্তানরা।
নির্যাতিত তানিয়ার বাবা দিনমজুর বেলাল হোসেন কলাবাগান থানায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করেন, মা হারা মেয়েকে ভালো ভবিষ্যতের আশায় প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেন মাধ্যমে তানিয়াকে পাঠানো হয়। যার কাছে পাঠানো হয় তার ঠিকানাটিও জানতেন না তিনি। প্রতিবেশী তোফাজ্জলের মাধ্যমে প্রথমে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় তানিয়াকে দিয়ে আসেন বেলাল। পরে তাকে পাঠানো হয় ঢাকায়। তানিয়া ঠিকানা বলতে না পারলেও জানিয়েছে, তাকে মিরপুরের একটি বাড়িতে রাখা হয়। ওই বাড়ির গৃহকর্তার নাম রাসেল, গৃহকর্ত্রীর নাম ছোটন এটাই তিনি জানতেন। প্রায় দেড় বছর মেয়ের সাথে তার যোগাযোগ ছিল না। অবশেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর তার মেয়ে তানিয়াকে প্রায় মৃত অবস্থায় ফেনী হাসপাতালে রেখে যায়। ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মেঝেতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে তানিয়া ছটফট করছে মৃত্যু যন্ত্রনায়।
এ নিয়ে বাংলাভিশন ডিজিটাল ও অনলাইন প্লাটফর্মসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অবশেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপির কমিশনার মো. মোসলেহ উদ্দিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়ার সহযোগিতায় তানিয়ার উপর নির্যাতনকারী গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ছোটকে কাফরুল থানা পুলিশ আটক করে।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের দিনমজুর বেলালের হোসেন ঘরে ছিল দুই মেয়ে। আর অভাবের সংসার ১১ বছর আগে জন্ম নিয়েছিল প্রথম সন্তান তানিয়ার।পাঁচ বছর আগে মারা যান তানিয়ার।তানিয়া স্থানীয় একটি মাদরাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছিল। কিন্তু যে সময় তানিয়া কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মা-বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল সে সময় তানিয়াকে পাঠানো গৃহকর্মীর কাজে। সে তানিয়া আজ ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মেঝেতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে। ছটফট করছে মৃত্যু যন্ত্রনায়।
জানা গেছে, দেড় বছর আগে প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের পরামর্শে মেয়ে তানিয়াকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠাতে রাজি হন বাবা বেলাল হোসেন। প্রলোভন ছিল তানিয়া সেখানে ভালো থাকবে ও সময় হলে তার বিয়েও দেওয়া হবে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস। এখানে তানিয়ার কপালে দু’মুঠো খাবার কিংবা নিরাপদ আশ্রয় জোটেনি। বরং দিনের পর দিন পার উপর চালানো হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন, রাখা হয়েছে টয়লেটে বন্দী করে। গরম খুন্তি তাপে ঝলসানো শরীর আর পঁচন ধরা পা নিয়ে সেই তানিয়া এখন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার প্রহর গুনছে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মেঝেতে।
তানিয়ার ছোট্ট এই দেহটির এমন কোনো অংশ নেই যেখানে খুন্তি পোড়া দাগ নেই। এমনভাবে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে যা দেখলে যে কেউই আঁতকে উঠবেন। মাথায় একাধিক সেলাই, শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষত। পিঠে বড় ফুটো হয়ে পঁচন ধরেছে। পঁচন ধরেছে দুই পায়ে। হাড্ডিসার দেহ আর চোখেমুখে ক্লান্তি নিয়ে পুষ্টিহীনতায় তানিয়া এখন পড়ে আছে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মেঝেতে। তবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়িয়েও তার উপর নির্মম নির্যাতনের বিচার চান তানিয়া।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: